. জীবিত শিক্ষকের গায়ে কাফনের কাপর এবং অনাহারে দিন পাড় করার গল্প - SIStunes.Com

জীবিত শিক্ষকের গায়ে কাফনের কাপর এবং অনাহারে দিন পাড় করার গল্প

ছবিটি তুলেছেনঃ সোহেল রজত
কিন্টারগার্ডেন শিক্ষক মানবন্ধন, টাঙাইল, ঢাকা


 শুনেছিলাম “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” কিন্তু আজ  শিক্ষার প্রশার পুরোপুরিভাবে বন্ধ। তাহলে এই জাতি কিভাবে এগিয়ে যাবে? আমরা তো হয়ে যেতে পারি মেরুদণ্ডহীন একটি জাতি তাই না?  কিন্তু যারা এই মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর তাদের আজ কি হাল সেটা কি কখনও কেউ লক্ষ্য করেছেন?

শিক্ষকতা এক মহান পেশা। একজন শিক্ষক তার লাভ করা জ্ঞানের প্রসার ছড়িয়ে দেন হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে কিন্তু শিক্ষক তাদের কষ্টের মূল্য ঠিক তখনই পায় যখন তার সন্তান স্বরুপ শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনে পরিপূর্ণতা লাভ করে।


কিন্তু আজ আমরা সেই জাতিতে পরিণত হয়েছি যে শিক্ষকদের দুটি ভাগে বিভক্ত করে দো”চখে দেখছি। হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে শিক্ষকদের আবার দো”চোখে কিভাবে দেখা যায়? চলুন দেখে নেই তাহলে...


আজ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  সরকারী নিবন্ধিত শিক্ষরা আজ স্কুলে/কলেজে প্রবেশ না করেও বেতন তুলতে সক্ষম। তারা তাদের সংসার নিয়ে বেশ ভালো দিন-যাপন করতেছে। এতে আমাদের কোন দুঃখ বা হিংসে স্বরুপ প্রতিবাদ নেই কিন্তু দুঃখ টা সেই স্থানেই যারা কিন্টারগার্ডেন স্কুলের শিক্ষক তাদের বেতন তো খুব বেশী হলেও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এতেই তারা সংসার চালাতো।

কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস? এভাবে স্কুল বন্ধ থাকার কারনে তাদের বেতন/সম্মানিও বন্ধ। লাখো লাখো বেকার যুবক-যুবতী ছিলো এই দেশে যারা কিন্টারগার্ডেন এ শিক্ষকতা করে বেকারত্ব নিরসন করে পরিবারের হাল ধরেছিলো কিন্তু আজ তারা পথে বসার মতো অবস্থায়। 

এরকম একটি স্বাধীন দেশে থেকেও তাদের ঘরে আজ দু'বেলা খাবারের জন্য চাল/ডাল নেই। আজও খাবারের অভাবে শিক্ষরা পেটে ক্ষুধা  নিয়ে আন্দোলনে নামে খাবারের জন্য। তাও আবার শরীরে কাফনের কাপর মোরকিত অবস্থায়। কতটুকু খারাপ অবস্থায় দিন পাড়ি দিলে একজন শিক্ষক জীবিত থেকেও মৃতের মতো কাফনের কাপড় শরীরে জড়িয়ে প্রতিবাদ করতে পারে?   এ কেমন জাতি?  যে জাতিতে শিক্ষকরা অনাহারে থাকে? 

একটা প্রবাদ বাক্য ছিলো যে,  “মানুষ মানুষের জন্য” 

কোথায় সেই মানবতা? আজ কোন প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা? শিক্ষদের অপমান নয় তাদের মর্যাদা দিয়ে সম্মান করুন। আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট আবেদন পেশ করি যে এরকম হাজারো শিক্ষক যারা কি’না অনাহারে ও আর্থিক কষ্টে আছেন তারা যেন সহযোগীতা পায়। কারণ এরাই তো মানুষ গড়ার কারিগর আর ভালো মানুষ দিয়েই তো একটি জাতির উন্নতি। 

সকল শিক্ষকদের সমান চোখে দেখুন কারণ শিক্ষক তো শিক্ষকই এদের ভেতরে সরকারী বা বেসরকারীর ভেদাভেদ সৃষ্টি করবেন না। কারন দুটি দলই মানুষ গড়ার কারিগর।


ভালো থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন। অনেক কথাই বললাম।  আমার কথায় কোন ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কারও মনে কোন আঘাত লেগে থাকলে এর জন্য আমি দায়ী নয়।আমি শুধুমাত্র বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। স্যালুট জানাই সকল শিক্ষকদের।


আপনার ব্যাক্তিগত  মতামত নিচের কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরোধ রইলো।

logo
প্রযুক্তির পরিচর্চা ও মুক্ত চিন্তাধারা নিয়ে আমার ভেতরে আমি বসবাস করি।
  • Facebook
  • WhatsApp
  • Instagram
  • সাবস্ক্রাইব করুন নতুন আপডেট পেতে

    রিলেটেড পোস্ট

    কমেন্ট
    কমেন্ট

    2 Responses to "জীবিত শিক্ষকের গায়ে কাফনের কাপর এবং অনাহারে দিন পাড় করার গল্প"

    1. প্রতিবাদী কথাগুলো ভালো লাগলো...

      ReplyDelete
    2. মাহিম ভুইঞাSeptember 7, 2020 at 12:10 AM

      ভালো লাগার মতো কিছু কথা। তবে এটাই সত্য কথা

      ReplyDelete

    Free HTML

    Free HTML 2

    Free HTML 3

    Free HTML 4