. টেড হিউজ (১৯৩০-১৯৯৮) - SiSTunes.Com

টেড হিউজ (১৯৩০-১৯৯৮)



ইয়কশায়ারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এক উপত্যকা এলাকায় ১৯৩০ সালের ১৭ আগস্ট টেউ
হিউজের জন্ম। তাঁর বাবা উইলিয়াম হিউজ কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিন ভাই-বােনের মধ্যে
চেড ছিলেন সবার ছােটো। ছােটোবেলা থেকেই তিনি নির্জন পরিবেশে নিঃসঙ্গ দিন কাটাতেন।
বন্ত্রশহর বলে খ্যাত ল্যাংকাশায়ার এবং পশমের জন্য বিখ্যাত পশ্চিমের অন্ধকার উচু
পাহাড়ে ঢাকা ছায়াময় পরিবেশে ছােটো কারখানাগুলাে টেডের বুকে পাথরের বােঝার মতাে চেপে
থাকত সব সময়। এখান থেকে পালানাের কথা মাঝে মাঝে ভাবতেন তিনি। তিনি ভাবতেন বাড়ি
থেকে পালিয়ে সীমানা ছাড়িয়ে দূরে কোথাও চলে যাওয়ার মতাে আনন্দ আর কিছুতে নেই।
টেডের যখন সাত বছর বয়স তখন তার পরিবার বাড়ি বদল করে দক্ষিণ ইয়র্কশায়ায়ের
ম্যাকস্বরােতে চলে যায়। এখানে এসে টেডের হৃদয়ে দুটি বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া কাজ করে।
একটি হলাে শহরের ধনী পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে স্কুলে অধ্যয়ন, নাগরিক জীবনের ক্লান্তিকর
যান্ত্রিকতায় আটকে থাকা; অন্যটি প্রকৃতির মাঝে নিজেকে অবাধে মিশিয়ে দেয়া।
পনেরাে বছর বয়সে টেড প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৯৪৮ সালে বৃত্তি পেয়ে ক্যামব্রিজে
ভর্তি হন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীতে মেকানিক হিসেবে চাকরিতে
যােগদান করেন। এই চাকরি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "শুধু সারা দিন শেকসপিয়ার পড়া আর সবুজ
ঘাসগুলাের বেড়ে ওঠা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা", এ ছাড়া আর কোনাে কাজ ছিল না।
এরপর আবার ১৯৫৪ সালে ক্যামব্রিজে ফিরে এসে স্নাতক হন। বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকায়
তার প্রথম কবিতা, "The little boys and the seasons" ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়। এ
সময় টেড ডিলান টমাসের কবিতায় ডুবে থাকতেন, এমনকি ডিলান টমাসের অধিকাংশ
কবিতাই ছিল তার কণ্ঠস্থ। ১৯৫৪ সালে টেডের "The Jaguar" এবং The Casualty"
নামক দুটি কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া জাগে ।
জীবিকার কারণে টেড হিউজ এ সময় নানা ধরনের ছােটোখাটো কাজকর্ম করেন। শেষে
অনেক চেষ্টা-তদবির করে একটি স্কুল শিক্ষকের চাকরি পান। কয়েক জন সাহিত্যিক বন্ধুর
সহায়তায় একটি পত্রিকাও বের করেন। এই পত্রিকার এক সান্ধ্য আড্ডায় মার্কিন কব
সিলভিয়া প্লাথের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। সিলভিয়া ছিলেন খুবই মেধাবি ছাত্রী। মার্কিনি ডিম
নেয়ার পর ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে ক্যামব্রিজে এসেছেন। ১৯৫০ সাল থেকেই নানা পত্রপত্রিকায়
সিলভিয়ার লেখা প্রকাশিত হয়ে আসছিল। টেডের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তিনি প্রতিষ্ঠিত
কবি, বয়সে সিলভিয়া টেডের চেয়ে দু বছরের ছােট। পরিচয়ের চার মাসের মাথায়ই তারা বিয়ে।
করেন এবং লিখে আর কবিতা পাঠ করে দু জনে সময় কাটাতে থাকেন। কিন্ु কয়েক বছরের
মধ্যেই তাদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়ে যায় এবং দুটি শিশুসন্তান নিয়ে সিলভিয়া।
আলাদা বাস করতে থাকেন। মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে সিলভিয়া নিজের ফ্ল্যাটে গ্যাসের চুলায়।
মাথা ডুবিয়ে আত্মহত্যা করেন।
logo
প্রযুক্তির পরিচর্চা ও মুক্ত চিন্তাধারা নিয়ে আমার ভেতরে আমি বসবাস করি।
  • Facebook
  • WhatsApp
  • Instagram
  • সাবস্ক্রাইব করুন নতুন আপডেট পেতে

    রিলেটেড পোস্ট

    কমেন্ট

    Free HTML 2

    Free HTML 3

    Free HTML 4