জন কিটস (১৭৯৫-১৮২১)

John Keats's life story



১৭৯৫ সালের ৩১ অক্টোবর লন্ডনের মুবফিন্ডস নামক স্থানে ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি
জন কিটস জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম টমাস কিটুস এবং মায়ের নাম ফ্রলান্সিস জেনিংস।
পাঁচ ভাই-বােনের মধ্যে কিটুস ছিলেন সবার বড়।
কিটুস সচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিলেন না। তার বাবা ঘােড়া ভাড়া দেওয়ার এক
আন্তাবলে কাজ করতেন। টমাস কিট্স তার মনিব কন্যাকে বিয়ে করেন।
আট বছর বয়সে কিট্সকে লন্ডন শহরের এনফিল্ডে জন ক্লার্ক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয়া
হয় ১৮০৩ সালে। এরপর বছরই অর্থাৎ ১৮০৪ সালে কিটুসের বাবা ঘােড়ার পৃষ্ঠ থেকে পড়ে
মৃত্যুবরণ করেন। তাদের সংসারে নেমে আসে ঘাের দুর্দিন। কিটুসের বাবার মৃত্যুর মাত্র দু
মাসের মধ্যেই কিটস্র মা আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন উইলিয়াম রাউলিং নামে এক ব্যক্তির
সাথে। কিন্তু এ বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। তিনি ফিরে আসেন স্বামীর বাড়ি থেকে এবং ফিরে
এসেই যক্ষ্মারােগে আক্রান্ত হন। ১৮১০ সালে কিটুসের মা মারা যান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কিটস
তার মায়ের শয্যাপাশে থেকে সর্বদা আন্তরিক সেবা প্রদান করেছেন। কিটুসের মা যখন মারা
যান তখন কিটুসের বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর। পূর্বোক্ত বিদ্যালয়ে কিটুস ১৮১১ সাল পর্যন্ত
পড়াশােনা করেন। মায়ের মৃত্যুতে কিটস হতােদ্যম হয়ে পড়েন-এবং লেখাপড়ায় মন বসানাে
তাঁর কঠিন হয়ে পড়ে। এ বেদনাকে ভুলে থাকার জন্য তিনি খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং
মুষ্টিযােদ্ধা হিসেবে কিছুটা সুনামও অর্জন করতে সমর্থ হন। ১৮১১ সালে তাঁর বােন কিটুসকে
বিদ্যালয় থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ড. হ্যামন্ড নামে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান চিকিৎসাবিদ্যা
শেখার জন্য, কিন্তু তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় কিটুস ফিরে আসেন। এরপর সেন্ট টমাস
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিপ্লোমা লাভ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের
জগৎ তার মােটেই ভালাে লাগেনি; কারণ কাব্যলক্ষ্মী তখন তাকে হাতছানি দিচ্ছে।
পরবর্তীকালে কিটুস শিল্পসাহিত্যের সেবক লি হান্ট, কবি শেলি, ল্যাম্ব, কোলরিজ প্রমুখ
সাহিত্যিক, কবি, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হেভেন ও বিখ্যাত কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সংস্পর্শে আসেন
এদের প্রেরণায় তাঁর শিল্পসাহিত্যের কাজ এগিয়ে যেতে থাকে। এরই মাঝে তার এক
উপার্জনকারী ভ্রাতা বিয়ে করে আমেরিকায় পাড়ি দেন। ছােটো ভাই টম যক্ষ্মায় আক্রান্ত। এই .
সব টানাপড়েনে ব্যথিত কবি মানসিক বেদনার উপশম ঘটাতে বেড়াতে গেলেন স্কটল্যান্ডে।
১৮১৮ সালে ছােটো ভাই টমও তাকে ছেড়ে চলে গেল পরপারে। কিট্স তখন একেবারে অকুল
পাথারে পড়লেন।
কিটসের জীবনে হঠাৎ করেই এলেন ফ্যানি ব্রাউন নামের এক রূপসী নারী। নানা
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফ্যানিকে বিয়ে করলেন কিট্স, কিন্তু ফ্যানি তার ঘরে এল না কোনােদিন।
ফ্যানিকে না পাওয়ার এই বেদনা তার কাব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
মাত্র আঠাবাে বছর বয়সে কিটসের প্রথম বই ইমিটেশন অব স্পেন্সার প্রকাশিত
কিটুসের অন্য বইগুলাে হচ্ছে, 'গােয়েমস', 'এন্ডাইমিয়ন', 'লামিয়া অ্যান্ড আদার পােয়েমস
যে সৌন্দর্যমণিত দৃষ্টিতে কিটুস পৃথিবীকে অবলােকন করেছেন পৃথিবী সে চোখে কিটস
গ্রহণ করেনি। তার গুরােটা জীবন কেটেছে নানা দুঃগ বেদনা ও হতাশার মধ্য দিয়ে। ভাই
অন্যত্র চলে যাওয়া, ছােটো ডাইয়ের মৃত্যু, এরপর নিদারুণ অর্থকষ্ট, ফ্যানি কর্তৃক প্রত্যাখা
এই সব আঘাত তার হৃদয়কে টুকরাে টুকরাে করে দেয়। বাসা বীধে মরণব্যাধি যক্ম। ১৮
সালে রক্তবমি হয় তাঁর। আর এদিকে সৌন্দর্যের অপরূপ মায়াজাল বিস্তার করা কষিতাগ
লিখিত হচ্ছিলাে এসময়েই। ১৮২০ সালে তাকে রােমে নিয়ে যাওয়া হয়। রেমে যাওয়ার সময়
গােপনে তিনি আফিম সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন তাড়াতাড়ি মৃত্যুকে ডেকে আনার জন্য। অসের
বেদনা, অনেক কষ্ট বুকে ধরে ১৮২১ সালে এই মহান কবি মাত্র ছাকি্বিশ বছর বয়সে অকাল
মৃত্যুবরণ করেন। রােমের প্রটেস্ট্যান্ট সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাহিত করা হয়।
কিটুসের কবিতাগ্রন্থগুলাের মধ্যে লামিয়া অ্যান্ড আদার পােয়েমস' বিশেষ উল্লেখযােগ্য।
কারণ এই বইটিতে 'ওড টু নাইটিংগেল', 'ওড টু অটাম', 'ওড অন এ গ্রিসিয়ান আর্ম', 'দি ইত
অব সেন্ট অ্যাগনিস', 'লামিয়া' প্রভৃতি কবিতা স্থান পেয়েছে।
টু অটাম' (To Autumn) কবিতাটি ১৮১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উইনচেস্টারে।
লেখা। সেখান থেকে কিট্স জন হ্যামিল্টন রেনন্ডকে লেখেন- বর্তমান ঋতুটি কত সুন্দর ক
চমৎকার আবহাওয়া। উইনইচেস্টারের এই সেপ্টেম্বর মাসের সময়টি, কিট্সকে বিশেষভাবে,
প্রভাবিত করেছিল। সে সময়ের প্রাকৃতিক রূপ তাকে বিমােহিত করেছিল, যা তার বন্ধুর কাছে
লেখা পত্র পাঠ করলে বােঝা যায়।
কবিতাটির শুরুতে অর্থাৎ প্রথম স্তবকে আমরা শরৎকালীন স্বাভাবিক রূপটিই প্রত্যক্ষ করি,
কিন্তু দ্বিতীয় স্তবকে এসে তার রূপ সম্পূর্ণই বদলে যায়। সেখানে শরৎ যেন মানবিক এক রূপ
নিয়ে আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়। তৃতীয় স্তবকে আমরা প্রত্যক্ষ করি এ ঋতুর শব্দোবলি,
পাবির কাকলি, ঝিঝির শব্দ, মেষের ডাক- এসবই যেন শব্দের কারুকাজে চিত্রিত। প্রকৃতি
যেন এসব শব্দের মাঝে নিজেকে মেলে ধরেছে। কবিতাটিতে কবি গ্রিক পৌরাণিক বিষয়েরও
অবতারণা করেছেন।
কবিতার প্রথম স্তবকে কুয়াশা, ফলভারানত বৃক্ষ, সূর্যের উত্তাপ, শস্যের দানার পূর্ণতা,
মৌমাছিদের মধু সঞ্চয় এসব দ্বারা প্রকৃত শরৎ ঋতুকেই ফুটিয়ে তােলা হয়েছে।
দ্বিতীয় স্তবকে এসে শরৎ যেন আর ঋতু থাকে না, সে নারীরূপে নিজেকে রূপান্তরিত
করে, শস্য মাড়াইয়ের স্থানে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়, কিংবা এলাে চুলে ঠায় বসে থাকে
মাঠে, আবার ধান কুড়ােনি মেয়েদের সাথেও তাকে দেখা যায়। মােট কথা, একটি মানবীয় রূপ
পরিগ্রহ করে শরৎ ঋতু।
তৃতীয় স্তবকে এসে দেখা যায় শব্দের সমারোেহ, মেষের ডাক, ডাশের গুন গুন, ঝিঝির
শব্দ, চিলের চিতকার। এসব শব্দ দ্বারা শরৎ যেন নিজেকে প্রকাশ করছে পাখির কাকলি আর-
ঝিঝির ঐকতানে।

Rea es:
[blogger]

MKRdezign

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget