এমিলি ডিকিনসন (১৮৩০-১৮৮৬)



১৮৩০ সালের ১০ ডিসেম্বর আমেরিকার আমহাস্্ট নামক একটি ছােট শহরে এমিলি ডিকিনসন

জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এডােয়ার্ড ডিকিনসন ছিলেন একজন নামকরা আইনজীয।

কংগ্রেসের সদস্য এবং আমহাস্্ট কলেজের কোষাধ্যক্ষ ও ট্রাস্টি বাের্ডের অন্যতম সদস্য। তাঁ

পিতা কর্তব্যকর্মে ছিলেন খুবই সচেতন, আমহাস্্ট শহরের একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

তিনি তার কাজকর্মে কখনােই ভাবাবেগকে প্রশ্রয় দিতেন না।

.

এমিলির প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় নিজ গৃহে। প্রায় এক বছরকাল তিনি নিজ গৃহেই শিক্ষা

গ্রহণ করেন। মাউন্ট হলিয়ক ফিমেল সেকেন্ডারি বিদ্যালয়টি তাদের বাড়ি থেকে ছিল প্রায় দশ

মাইল দূরে। এমিলি মাউন্ট হলিয়ক ফিমেল- সেকেন্ডারিতে ভর্তি হলেন, কিন্তু বিদ্যালয়ের

কঠোর নিয়মানুবর্তিতা তার সহ্য হল না, তিনি বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করলেন। এমিলি

ছিলেন মুক্তমনা। এ কারণে বিদ্যালয়ের নিয়মকানুনের সাথে তিনি নিজেকে মানাতে পারেননি।

আমহাস্ট্টে ফিরে এলেন ডিকিনসন। জানা যায় যে, তিনি তার পিতার শিক্ষানবিশী বেন।

নিউটন নামের এক যুবার প্রেমে পড়েন। সে যুবকটি এমিলিদের গৃহেই থাকত। বেন নিউটনের

প্রতি এমিলি আকৃষ্ট হন যে কারণে তা হল, যুবকটি শিল্প সাহিত্যের অনুরাগী ছিল। এমিলির

বাবা যুবকটির রিয়ের প্রস্তাব মেনে নেননি, কারণ বেন নিউটন ছিলেন খুবই দরিদ্র। এর পাঁচ

বহর পরেই বেন নিউটন ক্ষয় রােগে মারা যান।

১৮৫৪ সালে এমিলি নিউইয়র্কে গেলেন তাঁর, পিতার সাথে; সাক্ষাৎ করতে।

ফিলাডেলফিয়াতে এমিলির সাথে চার্লস ওয়ার্ডওয়ার্থ নামক এক যুবার, সাথে সাক্ষাৎ হয়।

জনশ্রুতি অনুযায়ী এমিলি তার প্রেমে পড়েন এবং বিয়ে করেন।

এমিলির মাঝে শিল্প সাহিত্যের স্পৃহা জাগ্রত হয় ছেলেবেলা থেকেই। তার পিতার ছাত্র

বেন নিউটন এটিকে আরাে অনেক দূর পর্যন্ত . অগ্রসর করে দেয়। পরবর্তীতে চার্লস

ওয়ার্ডওয়ার্থকে বিয়ে করলেও বেনের স্মৃতিকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি এমিলি।

সর্বদা একটা বেদনা বােধ ভেতরে ভেতরে কাজ করেছে তাঁর মধ্যে। প্রচুর কবিতা লিখেছেন

তিনি। প্রকৃতির ছােটখাটো বিষয় আর সাধারণ ঘটনাকে অবলম্বন করে। তার কবিতাগুলােতে

মধুর এক গীতিধর্মিতা সর্বদা খেলা করে। সাধারণ চোখে দেখা একটি বিষয়কেও তিনি

অসাধারণত্ব দান করেছেন।

১৮৬২ সালে এমিলি ডিকিনসনের জন্য একটি উল্লেখযােগ্য সময়, এ সময় কম করে

হলেও তাঁর ৩৬২টি কবিতা লেখা হয়। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৪ সালের মধ্যে এমিলি প্রায় সাতশ্ত

পঞ্চাশটি কবিতা রচনা করেন।

এমিলির কবিতাগুলােতে তার একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তাচেতনার স্কুরণ ঘটেছে। ছােট ছােট

কবিতাগুলােতে তার নিজস্ব জগতের ছায়াপাত ঘটেছে। সাধারণ একটি বিষয়কে নিজস্ব।

দৃষ্টিভঙ্গিমার দ্বারা অসাধারণত্বের পর্যায়ে নিয়ে গেঁছেন।

সবচেয়ে অবাক ব্যাপার এই যে, এবং যেটি আজও আমাদের ভাবায় তা হল, এমিলি

জীবিতকালে তার কোনাে কবিতা প্রকাশ করেননি। ১৯২০ সালের পূর্বে তিনি অজ্ঞাতই ছিলেন

বলা যায়। ১৯২৪ সালে মার্থা বিয়ামচি এমিলির কবিতাগুলাে থেকে বেশ কিছু কবিতা বাছাই

করে একটি নির্বাচিত কবিতার সংকলন প্রকাশ করেন। ১৯৪৫ সালে এমিলির প্রতিবেশী মিসেস,

মার্বেল টড ও তার কন্যা মিলিসেন্ট টড 'বােল্ট অব মেলােডি' নামে ছয়শত আটষট্টিটি কবিতা

নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করেন। জানা যায়, এমিলির জীবিত অবস্থায় কী করে যেন হঠাৎ

করে সাতটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল।

তার ছােট ছােট গীতিধর্মী কবিতাগুলাে বিশ শতকের কবিতার প্রবহমান ধারায় যেন

হাজারাে নক্ষত্রের মতােই দীপ্যমান।

১৮৮৬ সালে এই মহান প্রতিভা লােকান্তরিত হন।



Rea es:
[blogger]

MKRdezign

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget