ম্যাথু আর্ন্ড (১৮২২-১৮৮৩)



তিনি ছিলেন পিতা-মাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর পিতা ছিলেন রাগবি বিদাযালয়ের
নামকরা প্রধান শিক্ষক। ম্যাথু আর্ন্ড শিক্ষালাভ করেছেন রাগবি বিদ্যালয়, বালিওল কলেজ
এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। অক্সফোর্ডে পাঠরত অবস্থায়ই তাঁর পিতৃবিয়ােগ ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি কিছুদিন পিতার বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন
এবং ওই সময় তিনি ওরিয়েল কলেজের ফেলােশিপ পান। কিন্তু এ কর্মে তিনি নিজেকে বেশি
দিন স্থির রাখেননি, কারণ শিক্ষকতা পেশাটাকে তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না। এরপর
তিনি ইংল্যান্ডের শিক্ষাবিভাগের প্রধান কর্মকর্তার প্রাইভেট সেক্রেটারি নিযুক্ত হলেন। ঠিক এ
সময়েই তিনি দ্যানি লুসি নামের এক তরুণীর প্রেমে পড়েন। দ্যানির বাবা ছিলেন হাইকোর্টির
১৮২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর লেক ডিস্ট্রিক্টির লালিহাম নামক স্থানে ম্যাথু আর্ন্
আর্ন্ডকে চাকরির
প্রধান বিচারপতি। দ্যানির পিতা আর্নল্ডকে শর্ত প্রদান করলেন যে,
আরাে ওপরে অবস্থান করতে হবে। এতেই দ্যানিকে পাওয়া সম্ভব। ম্যাথু আর্ন্ড ল্যাসডাউনকে।
অনেক ধরাধরি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের চাকরি পেলেন এবং দ্যানি লুসিকে দি
করে সুখে সংসার পাতলেন। চাকরি ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট যােগ্যতার পরিচয় প্রদান
করেছিলেন। ১৮৫৭ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নিযুক্ত হন কিন্তু চাকরি
ত্যাগ করেননি। তার লক্ষ্য ছিল অনেক উর্ধে। তিনি প্রধানমন্ত্রী গ্ল্যাডস্টোনের প্রীতির প্রতি
সমর্থন জানিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। তিনি আশা করেছিলেন তিনি রাষ্ট্রদূত হবেন। কি্ন
তার সে আশা সফল হয়নি। তবে পরবর্তীকালে তিনি শিক্ষাবিষয়ক কমিশনার নিয়ন্ত
হয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২৫০ পাউন্ড করে অবসর
ক্ষেত্র ভাতা পেতে থাকেন।
১৮৪৯ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দি স্ট্রেড রেভেলার অ্যান্ড আদার পােয়েমস প্রকাশিত
হয়। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এমপিডােক্লিস অন এটনা অ্যান্ড আদার পােয়েমস প্রকাশিত হয়
১৮৫২ সালে। তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালে এবং চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ নিউ
পােয়েমস' প্রকাশিত হয় ১৮৬৭ সালে।
আর্নন্ড যে যুগে জন্ম গ্রহণ করেন সে সময়টা হচ্ছে টেনিসন, ব্রাউনিংয়ের সময়। সে
সময়ে বস্তুবাদী জীবন ভাবনায় ব্রাউনিং অগ্নলিশিখার মতাে জুলে উঠেছিলেন আর আর্ন্ বাস্তর
জীবনের স্বরূপ দেখে মেতে উঠেছিলেন, কিন্তু নতুন কোনাে ভাবনার ভিত তৈরি করতে
পারেননি তিনি।
ম্যাথু আর্ন্ড ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। মানবজীবন্ে
বিশাল ক্ষেত্র হতে নিজেকে বিছিন্ন করে তিনি আত্মকেন্দ্রিক জীবন বেছে নিয়েছিলেন। এ ই
জীবনে তিনি দুটি দিক থেকে রীতিমতাে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। একটি তার প্রেমিকা মাগ্গারেট
এবং অন্যজন গ্ল্যাডস্টোন, যার ফলে তার মাঝে কিছুটা হতাশা আর নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছিন।
গ্রিক সাহিত্যে পণ্ডিত ছিলেন আর্নল্ড, কিন্তু পুরােপুরি নিজেকে গ্রিক ভাবনায় জড়িত করতে
পারেননি। কারণ পূর্ণাঙ্গ আস্থার অভাব। পরিশ্রমের ছাপ লক্ষ করা যায় তার
সাহিত্যকর্মগুলােতে। রচনাকে মেজেঘষে তিনি সর্বদা একটা পরিচ্ছন্ন মার্জিত রূপ প্রদান করার
প্রয়াস পেয়েছেন। তবে আর্ন্ড যতটা জীবনভাবনায় সচেতন ছিলেন ততটা জীবনশিল্পী ছিলেন
না। সমালােচকের মেজাজে তিনি কাব্য রচনা করেছেন। আর এ কারণেই তিনি বলতে
পেরেছিলেন, Art is criticism of life". সমালােচনা করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই রূঢ় বাস্ত
বের মুখােমুখি হয়েছেন, যার ফলে জন্ম নিয়েছে হতাশা। যে কারণে তার কবিতায় হতাশার
সুরটি স্পষ্ট।
:-
ডােভার বিচ কবিতায় কবি ডােভার সমুদ্রতটের শান্ত নির্মল সৌন্দর্যে নিজেকে পুরােপুরি
অবগাহন করাতে পারেননি। কারণ একটিই, কঠিন রূঢ় বাস্তবের সাথে তার বিরুদ্ধতা।
সমুদ্রতীরের সৌন্দর্য উপভােগকালীন সময়ই তার মাঝে কঠিন বাস্তবের ছবি এসে হানা
দিয়েছে। তিনি অনুভব করলেন, কোথাও শান্তি নেই, নেই আনন্দ নেই কোনাে আশার আলাে।
তার মনে হয়েছে পুরাে জগৎ্টাই অন্ধকারে আবৃত। এই অন্ধকারেই চলছে হানাহানি আর
সংঘাত।
"And we are here as on a darkling plain
Swept with confused alarms of struggle and flight.
Where ignorent armies clash by night."
মােট কথা বাস্তব জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়েই নিয়েছিলেন বলা যায়।
আর্নল্ডের কবিতাগুলােতে হতাশা আর নৈরাজ্যের সুর ধ্বনিত হলেও, এই নৈরাজ্য থেকে
ডা্থত আবেগ ও কামনা, দীর্ঘশ্বাস, ব্যথাবেদনা আলাদা একটি আবাহ তৈরি করে।
আনন্ডের বড়াে কন্যা লুসি আসছে আমেরিকা থেকে। তাকে বরণ করার জন্য গিয়েছিলেন
লিভারপুলে। সেখানে একটি বেড়া ডিঙাতে গিয়ে তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে যান এবং মৃত্যু এসে
কালাে ছায়া ফেলে তার ওপর। ১৮৮৩ সালে এই মহান কবি পরলােকগমন করেন।

Rea es:
[blogger]

MKRdezign

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget