. উইলিয়াম শেকসপিয়ার এর জীবনি (১৫৬৪-১৬১৬) - SiSTunes.Com

উইলিয়াম শেকসপিয়ার এর জীবনি (১৫৬৪-১৬১৬)



১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ এপ্রিল ওয়ারউইকশায়ারে অ্যাভন মদীর তীরে স্ট্রাটিফো্ডে (Start
ford-upon Avon)-এ উইলিয়াম শেকসপিয়ার জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জন
শেকসপিয়ার। জন শেকসপিয়ার ছিলেন একজন জোতদারের সন্তান। নিজের ভাগ্য
পরিবর্তনের জন্য তিনি ১৫৩১ সালে স্ট্রাটফোর্ডে এসে শস্য, চামড়া এবং অন্যান্য কৃষিদ্রিক্যের
ব্যবসা শুরু করেন।
উইলিয়াম শেকসপিয়ারের মায়ের নাম জেরি আর্ডেন। তিনিও একজন বড় জোতদারের
কন্যা ছিলেন। শেকসপিয়ারের পিতার বৃত্তি নিয়ে নানা মতভেদ দেখা যায়। কারাে কারাে মতে,
তিনি ছিলেন প্রাচীন ইংল্যান্ডের জোতদার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, আবার কেউ কেউ বলেন,
তিনি ছিলেন কষাই। তবে স্ট্রাটফোর্ড শহরের পুরনাে নাম থেকে জানা যায়, জন শেকসপিয়ার
ছিলেন একজন দস্তানা প্রস্তুতকারক ও নরম চামড়া দ্বারা তৈরি শৌখিন দ্রব্যের ব্যবসায়ী।
তিন ভাই এবং চার বােনের মধ্যে একমাত্র উইলিয়াম শেকসপিয়ারই জীবিত ছিলেন।
অন্যরা মারা গিয়েছিলেন ভয়াবহ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে। শেকসপিয়ারের বাল্য ও শৈশব সম্পর্কে
বিশেষ কিছু জানা যায় না। তবে এটুকু জানা যায়।
পরে উচ্চশিক্ষার সুযােগ তিনি পাননি। তবে কিছুটা গ্রিক ও লাতিন ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন।
পরবর্তীকালে লন্ডনে বাসকালে লাতিনের সাথে ফরাসি ভাষাও শিখেছিলেন।
যে, স্থানীয় অবৈতনিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার
শেকসপিয়ার ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে তার চেয়ে আট বছরের বড় অ্যালহ্যাখাওয়ের নামের এক নারীর
সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের ছ মাস পরে জন্ম নেয় তাঁর প্রথম সন্তান 'সুশলা। ১৫৮৫
খ্রিষ্টাব্দে তাদের সংসারে জন্ম নেয় জমজ সন্ভান হ্যামলেট ও জুডিথ। এরপর সাংসারিক চাপে
শেকসপিয়ার স্ট্রাটফোর্ড ছেড়ে লন্ডনে চলে আসতে বাধ্য হন। লন্ডনে এসে তিনি এক নাট্যদলে
ভর্তি হন। খুব সম্ভব প্রথম দিকে তিনি দলের ফাইফরমাশ খাটতেন। পরে অবশ্য অভিনয়ে জড়িত
হয়ে পড়েন। তবে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতে তাকে কখনােই দেখা যায়নি।
সে আমলের চড়া সুরে বাঁধা সংলাপসর্বস্ব নাটকে গভীর চিন্তাশীলতা বা বুদ্ধিমত্তার অভাব
এতটাই প্রকট ছিল যে, তিনি শিগগিরই বুঝতে পারলেন, তার জন্ম হয়েছে অভিনয় করার জন্য
নয়, জন্ম হয়েছে নাটক রচনা করার জন্য। এর পরই তিনি প্রচলিত অমিত্রাক্ষর ছন্দকে আশ্রয়
করে নাটক রচনায় নেমে পড়েন।
প্রাথমিক পরীক্ষা পর্বে ১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রচনা করেন Lovers Labour's Lost,
Comedy of Errors, Two Gentlemen of Verona u aa a a ae
১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দ, পর্যন্ত তিনি রচনা করেন 'Merchant of Venice'
King Jhon', A Mid Summer Night's Dream' ইত্যাদি আটটি নাটক। ১৫৯৯
থেকে ১৬০৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রচনা করেন 'Much About Nothinig,' 'Hamlet' ইত্যাদি।
নাটক। ১৬০৪ থেকে ১৫০৯ সালের মধ্যে শেকসপিয়ার তার শ্রেষ্ঠ ট্রাজেডিগুলাে রচনা করেন।
এগুলাের মধ্যে অন্যতম হলাে 'Othelo', 'Measure for Measure', 'Macbeth'
"King Lear', 'Antony and cleopatra' 'Carilanus' 4R a a “Timon of
Athens' 6 'Pericles'.
শেকসপিয়ার শেষ জীবনে ১৬১০-১৬১২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচনা করেন Cymbeline'
"The Winter Tale, The Tempest 4R Henry viii'.
সফল নাট্যকার হিসেবে প্রভূত যশ ও খ্যাতির অধিকারী হয়েছিলেন শেকসপিয়ার। ১৫৯৭
খ্রিষ্টাব্দে তিনি স্ট্রাটফোর্ডে নিউপ্লেস নামে বিশাল একটি প্রাসাদ ক্রয় করেছিলেন। জীবনের শেষ
দিনগুলাে তিনি এখানেই কাটান। এছাড়া বিখ্যাত নাট্যশালা Globe এবং Black Fiars
Theatres-এর মালিকানায় অংশ ছিল তার।
শেকসপিয়ার নাট্যকার হিসেবে সারা পৃথিবীতে পরিচিত হলেও তার সৃষ্ট কাব্যও অতি
মূল্যবান সাহিত্যকর্ম হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। তার রচিত শতাধিক চতুর্দশপদী কবিতায়,
এর প্রমাণ মেলে।
শেকসপিয়ারের বন্ধু বেন জনসনের লেখা থেকে জানা যায়, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি
ছিলেন বন্ধুবৎসল ও দরদি মনের মানুষ। মানুষ ও সমাজকে তিনি সহানুভূতি এবং অসাধারণ
দরদি মন নিয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন। মানুষের.মনের নিত্যদিনের আবেগ-অনুভূতি ও দ্বন্দ্-
সংঘাতের আলােড়নসমূহকে অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন তার সৃষ্টিকর্মে।
১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ এপ্রিল স্ট্রাটফোর্ডের নিজ বাসগৃহে এই মহান কবি ও নাট্যকার
পরলােকগমন করেন।
দান্তে ও পেত্রার্ক থেকে শুরু করে শেকসপিয়ারের সমকালীন কবিরা সবাই তাদের
সনেটসমূহে ব্যক্তিগত প্রেমের কথা লিখেছেন। যার মাঝে বাস্তব ও কল্পনা ইত্যাদির উপস্থিতি
লক্ষণীয়। শেকসপিয়ার কিন্তু সে পথে যাননি। তিনি তার সনেটসমূহে বিশেষ করে বেশ কিছু
সনেটে বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। সে সময়ে বিশেষ এক বন্ধুকেই নিবেদিত তার প্রেমবিষয়ক
সনেটগুলাে। শেকসপিয়ার আকৃষ্ট হয়েছিলেন সুন্দর এক যুবার প্রতি, যে ছিল তার চেয়ে বয়সে
অনেক ছােট। কেমন করে তিনি এই সুন্দর দেহসৌন্দর্যের অধিকারী যুবার প্রতি আকৃষ্ট হলেন
তা কেউ জানে না। সে যুবার দৈহিক সৌন্দর্যে ছিল রমণীসুলভ কোমলতা, তার স্বভাবে ছিল এক বাসন্তী মৃদুলতা। ১৮ নম্বর সনেটটি এই যুবা বন্ধুকে নিয়েই লেখা। যার সৌন্দর্যকে তিনি
গ্রীষ্মকালের সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করেছেন, যে সৌন্দর্যের কোনাে দিনই পরিবর্তন ঘটবে না।

logo
প্রযুক্তির পরিচর্চা ও মুক্ত চিন্তাধারা নিয়ে আমার ভেতরে আমি বসবাস করি।
  • Facebook
  • WhatsApp
  • Instagram
  • সাবস্ক্রাইব করুন নতুন আপডেট পেতে

    রিলেটেড পোস্ট

    কমেন্ট

    Free HTML 2

    Free HTML 3

    Free HTML 4