উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ (১৭৭০-১৮৫০)

William Wordsworth Life Story In Bangla



১৭৭০ সালের ৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের নিচু হ্রদ এলাকার অদূরবর্তী শহর
ককারমাউথে কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ জন্মগ্রহণ করেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থের পিতার নাম জন
ওয়ার্ডসওয়ার্থ, পেশায় তিনি ছিলেন একজন আইন ব্যবসায়ী। ওয়ার্ডসওয়ার্থের শৈশব কেটেছে,
হ্রদ এলাকার সহজ সরল কৃষকদের সান্নিধ্যে। ওয়ার্ডসওয়ার্থ খুব ছােটোবেলায়ই তার মা-
বাবাকে হারান। এ কারণে লেখাপড়ার খরচ জোগানাের জন্য তাকে তার আত্মীয়স্বজনের ওপর
নির্ভর করতে হয়েছে। প্রথমে তাকে গ্রামেরই হকশেড গ্রামার স্কুলে ভর্তি করানাে হয়।
এখানকার পড়াশােনার পাট চুকলে ক্যামব্রিজের আওতাধীন সেন্ট জন কলেজে ভর্তি হন তিনি।
তখনাে তার মাঝে কাব্যভাবনার স্বপ্নালু দিকগুলাে ফুটে ওঠেনি কখনাে। সে সময়ে তিনি
পাহাড়ে আরােহণ, নৌকাবাইচ এবং হৈ-হল্লা করে সময় পার করতেন।
১৭৯১ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ফরাসি দেশে তখন বিপ্লবের দামামা
বাজছে। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে প্রত্যক্ষ করলেন পৈশাচিক উল্লাসে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে।
বিপ্লবের এই বিপথগামিতা দেখে তিনি মনে বড়াে আঘাত পেলেন এবং ১৭৯২ সালে ইংল্যান্ডে
ফিরে এলেন। এ সময় তার এক বন্ধু রাইজলে কালভার্ট তাকে কিছু নগদ অর্থ প্রদান করে
কাব্যচর্চার দিকে ফিরে আসতে উৎসাহ প্রদান করলেন। রাইজলের অর্থসাহায্য প্রাপ্তির পর
ওয়ার্ডসওয়ার্থ কাব্যসাধনায় মনােযােগী হলেন।
ওয়ার্ডসওয়ার্থের শুধু তখন একটাই ভাবনা, কবিতা আর কবিতা, কারণ আয় রােজগারের
কোনাে ভাবনা নেই। শুধু ফুলপাতা, তরুলতা আর স্বপ্নলােকে বিচরণ। এ সময় তার
অনুপ্রেরণাদাত্রী ছিলেন বােন ডরােথি। এরই মাঝে তার পাশে জুটলেন কবি কোলরিজ। বােন
ডরােথির সেবা আর কোলরিজের বন্ধুত্ব দুটোই কবিকে এগিয়ে দিল অনেক দূর। ১৭৯৮ সালে
প্রকাশিত হলাে তার "লিরিক্যাল ব্যালাড নামে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটিই তাকে বিশ্বসাহিত্যে
আসন করে দেয়। ১৭৯১ সালে ফ্রান্স ভ্ৰমণে গিয়ে মারি অ্যান নামে এক রমনীর প্রেমে পড়েন
কিন্তু তা সফল হয়নি। ১৮৩২ সালে তিনি মেরি হ্যাচিন্সন নামের এক রমণীকে বিয়ে করেন।
জীবিত থাকাকালীন কবি বহু খেতাব ও সম্মানে ভূষিত হন তার কাব্যকর্মের জন্য। ১৮৫০
সালে এই মহান কবি পরলােকগমন করেন।
ড্যাফোডিল' কবিতাটিতে ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রকৃতিপ্রেমের আসল পরিচয় পাওয়া যায়।
প্রকৃতিপ্রেমের কবিতা হিসেবে এটি সার্থকভাবে উন্নীত। প্রকৃতির সঙ্গে মানব হৃদয়ের গভীর
যােগাযােগের বিষয়টি এ কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে। কবি ড্যাফোডিল ফুলগুলাে প্রত্যক্ষ করার
দীর্ঘ দিন পরেও হাজার হাজার ড্যাফোডিল ফুলের সারি তার ভাবনায় বারবার হানা দিয়েছে।
গৃহে সােফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজতেই তিনি ড্যাফোডিল ফুলদের নৃত্য প্রত্যক্ষ
করতেন। কবি বলেছেন, ফুলগুলাে তার ভাবনায় এনে দিয়েছে নতুন এক ব্যঞ্জনা। কবি এবং
নিসর্গ এ দুটোর অসাধারণ যােগাযােগ ঘটেছে এ কবিতাটিতে।

Rea es:
[blogger]

MKRdezign

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget