পার্শি বিশি শেলি (১৭৯২-১৮২২)



১৭৯২ সালের ৪ আগস্ট ইংল্যান্ডের হােরসাম সাসেক্সের নিকটবর্তী ফিল্ডপ্লেস নামক স্থানে
ইংরেজি ভাষার বিখ্যাত কবি শেলি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা টিমােথি শেলি ছিলেন একজন
ধনাঢ্য ব্যক্তি। প্রচুর সহায়সম্পদ ছিল তার। শেলির প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় বােনদের
তত্ত্বাবধানে নিজ গৃহেই। ১৮০২ সালে শেলিকে ভূর্তি করে দেয়া হয় ব্রেন্ট দোউ, সিওন
হাউজে। এখান থেকে তাকে নেয়া হয় এটনে, সময়টা ১৮০৪ সাল। এই এটনেই তিনি
বিদ্যালয়ের পড়াশােনা শেষ করেন। ১৮০৮ সালে শেলি অক্সফোর্ডে ভর্তি হন, সেখানে তাঁর
পাঠ্যবিষয় ছিল ধর্ম ও দর্শন। ভাগ্যের পরিহাস, এখানে বেশি দিন টিকতে পারলেন না। ১৮১১
সালে তিনি "নাস্তিকতার প্রয়ােজনীয়তা" নামে একটি পুস্তিকা লিখে বেনামিতে বাজারে ছাড়েন।
চারদিকে রীতিমতাে আন্দোলন শুরু হয়ে যায় এ পুস্তিকা নিয়ে। শেষে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ
তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়। বইটি লেখার ব্যাপারে তাঁর এক বন্ধু হগ
সহযােগিতা করেছিল, তাকেও বহিষ্কার করা হয়।
ছােটোবেলা থেকেই অর্থসম্পদ ও প্রাচুর্যের মধ্যে মানুষ হওয়ার কারণে শেলি কোনোে
নিয়মনীতির খুব একটা ধার ধারতেন না। অক্সফোর্ড থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর শেলির বাবাও
তাকে বাড়ি থেকে বহিষ্কার করলেন। এ সময়ে শেলির খুবই আর্থিক কষ্ট যাচ্ছিল। এরই মাঝে
হঠাৎ করেই জীবনে এল প্রথম প্রেম। গ্রোভ নামের এক মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগলেন
শেলি, কিন্তু এ প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
পরবর্তীকালে শেলি তার এক বােনের বান্ধবী হ্যারিয়েটের প্রেমে পড়েন, শেষে তাকে বিফ্রে
করেন। কিন্তু তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মের পরপরই হ্যারিয়েট নিজেই বিবাহ বিচ্ছেদ চান।
বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর হ্যারিয়েট তার পিতার গৃহে গিয়ে আর একটি সন্তান জন্ম দেন।
1.
তারপর শেলি মেরি নামের এক রমনীকে বিয়ে করেন। মেরি ছিলেন বিখ্যাত ল্লেখক
গডউইনের কন্যা। মেরি ও শেলি দুটি পুত্র-কন্যা লাভ করেন এবং ইতালিতে পাড়ি জমান।
ইতালিতে তাঁর পুত্র ও কন্যা দুজনই মারা যায়। ১৮১৯ সালে তাঁর তৃতীয় সন্তান জন্ম নেয়।
১৮২২ সালের গ্রীষ্মকালে সমুদ্রতীরে নৌকা ভ্রমণকালে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি
হয়ে এই মহান কবি মৃত্যুবরণ করেন। তার বিখ্যাত বইগুলাে হচ্ছে, কুইন ম্যাব
অ্যালাস্টার', 'দি রিভােল্ট অব ইসলাম,' 'এড়ােনিস', 'দি ডিফেন্স অব পােয়েট্রি ইত্যাদি।
Ozymandias কবিতাটি গ্রিক ঐতিহাসিক ডিডােরাসের বর্ণনা পাঠ করে লেখাম
0zymandias শব্দটি গ্রিক, রাজা দ্বিতীয় রামেসেস গ্রিক ভাষায় এ নামে পরিচিত।
Ozymandias নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দবী মনে করতেন, তিনি নিজেকে রাজার রাজ
ভাবতেন। এই কবিতায় Ozymandias-এর ভগ্ন প্রস্তর মূর্তির কথা বলা হয়েছে। মরুভূমির
বালিতে শুধু দুটো পা দাঁড়িয়ে আছে, শরীর নেই। এখানে রাজা যেন বলছেন, দেখাে, আমার
দিকে তাকাও গর্ব আর হতাশার সঙ্গে। বিশাল ক্ষমতাশালী ছিলাম, আজ কী পরিণতি আমার
কবিতাটিতে মানব জীবনের গভীর এক ট্রাজেডির রূপ অপূর্ব দক্ষতায় ফুটিয়ে তােলা হয়েছে।
Rea es:
[blogger]

MKRdezign

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget