2020

 

ফাইল ছবিঃ প্রধানমন্ত্রী 

ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত একটি রেলপথ স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানী ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে রোববার যমুনা নদীর ওপর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-লাইন ডুয়েল-গেজ বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত একটি রেলপথ স্থাপন করবে। আমরা একটি সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করব, সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার নতুন ইঞ্জিন ও বগি সংগ্রহসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে রেলপথ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।

তিনি বলেন, এর মাধমে সরকারের অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, রেলপথ সচিব মো. সেলিম রেজা প্রমুখ বক্তব্য দেন।



বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের রাজ্য বিস্তারের তিনটি পর্যায় লক্ষ করা যায়। প্রথমত, ইরাকের।

শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দের যুদ্ধে

রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হলে সিন্ধু ও মুলতান রাজ্য মুসলমানদের অধিকারে চলে আসে।

বহামাদ বিন কাসিমের সিন্ধু ও মুলতান জয়ের প্রায় ৩০০ বছর পর একাদশ শতকের প্রথম দিকে গজনীর তুর্কি

ান আমীর সবুক্তগীন ও তার পুত্র সুলতান মাহমুদ পুনঃপুন ভারত আক্রমণ করেন। ১০০০-১০২৭ সালের

মধ্যে সুলতান মাহমুদ মােট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন।

সুলতান মাহমুদের মৃত্যুর প্রায় দেড়শ বছর পর উপমহাদেশে মুসলিম শাসন

প্রতিষ্ঠিত হয়। এ পর্যায়ে নেতৃত্ব দান করেন মুঈজ-উদ-দীন মুহাম্মদ-বিন-সাম,

যিনি ইতিহাসে মুহাম্মদ ঘুরী নামে পরিচিত। ১১৯২ সালে দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে

মহাম্মদ ঘুরী পৃথবীরাজকে পরাজিত করে দিল্লি ও আজমীর দখল করেন। এ সময়ে

(১২০৪ সালে) ইখতিয়ার-উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি নামে এক তুর্কী

ভাগ্যান্বেষী মুসলমান সমগ্র বিহার ও বাংলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জয় করেন।

এভাবে মুহাম্মদ ঘুরী ভারতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হলেও বাংলায় মুসলিম

শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইখতিয়ার-উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি।

দাহির ছিলেন-সিঙ্ধু ও মুলতানের রাজা।

| যে মুসলিম সেনাপতি স্পেন জয় করেন-তারিক মুহাম্মদ ঘুরী

| আরবদের আক্রমণের সময় সিন্ধু দেশের রাজা ছিলেন দাহির।

| প্রথম মুসলিম সিম্ধু বিজেতা ছিলেন মুহাম্মদ-বিন-কাসিম।

| সুলতান মাহমুদের রাজসভার শ্রেষ্ঠতম দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন- আল বেরুনী।

| গজনীর অধিপতি সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন--১৭ বার।

| সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন-- মহাকবি ফেরদৌসী।

প্রাচ্যের হােমার বলা হয়মহাকবি ফেরদৌসীকে।

| ভারতে সর্বপ্রথম তুর্কী সাম্রাজ্য বিস্তার করেন-মুহাম্মদ ঘুরী।

আল বেরুনী

প্রথম তরাইনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১১৯১ সালে। এ যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী

পৃথ্বীরাজের কাছে পরাজিত হন।

I দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী পৃথীরাজকে পরাজিত করেন।১১৯২ সালে।

| ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন-মুহাম্মদ ঘুরী।

মুহাম্মদ ঘুরীর প্রকৃত নাম-মুঈজ-উদ-দীন মুহাম্মদ-বিন-সাম।

বখতিয়ার খলজির অতর্কিত আক্রমণে রাজা লক্ষ্মণ সেন পালিয়ে আশ্রয় নেন

পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে।

- রাজধানী নদীয়ায়।

। বখাতিয়ার কর্তৃক বাংলা আক্রমণকালে লক্ষ্মণ সেন অবস্থান করছিলেন

বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন,১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে এবং মারা যান১২০৬ খ্রি্টব্দে।

বাংলার মুসলমান রাজ্য সর্বাধিক কিস্তার লার্ভ করে

সুলতান শামসুদ্দিন ফিরােজহের

ইবনে বতুতা

বাংলায় সুলতানী শাসন প্রতিষ্ঠা
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের মাধ্যমে সােনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতানদের
হাতে বাংলা (সমগ্র) প্রথম স্থিতিশীলতা লাভ করে। মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ফখরুদন
মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে আসেন।
| ইবনে বতুতা ভারতে আসেন১৩৩৪ সালে।
| বাংলায় ইবনে বতুতার আগমন ঘটে- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে (১৩৪৫-৪৬ খ্রিন্টা্ে।
। ইবনে বতুতা ছিলেনমরক্কোর পর্যটক।
। চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সুদীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করেন।- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
। সর্বপ্রথম যে চীনা পরিব্রাজক ভারতবর্ষে আগমন করেন- ফা হিয়েন।



এক নজরে বাংলাদেশ

At a Glance Bangladesh

 রাষ্ট্র ও জাতীয় বিষয়

| সাংবিধানিক নাম : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

| রাজধানী : ঢাকা।

| বাণিজ্যিক রাজধানী : চট্টগ্রাম।

। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস : ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা লাভ :২৬ মার্চ ১৯৭১)।

। বিজয় দিবস : ১৬ ডিসেম্বর।

| জাতীয় সঙ্গীত : আমার সােনার বাংলা'র প্রথম ১০ চরণ (রচয়িতা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

| জাতীয় প্রতীক : দুপাশে ধানের শীষবে্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা। তার মাথায় পাট

গাছের পরস্পর সংযুক্ত তিনটি পাতা এবং উভয় পাশে দুটি করে তারকা।

। রাষ্ট্রভাষা : বাংলা (ইংরেজি অন্যতম ভাষা)।

| জাতীয়তা : বাঙালি।

| নাগরিকত্ব : বাংলাদেশি।

| রাষ্ট্রধর্ম : ইসলাম।

জাতীয় প্রতীক

 আয়তন ও সীমানা

| আয়তন : ১,৪৭,৫৭০ বর্গ র্লিমি বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল।

| মােট সীমানা : ৫,১৩৮ কিমি।

| স্থলসীমা : ৪,৪২৭ কিমি।

| জলসীমা : ৭১১ কিমি।

| সীমা : উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়; পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও

মিয়ানমার (বার্মা); পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

| সীমান্তব্তী দেশ : ২টি (ভারত ও মিয়ানমার)।

| সীমান্ত বাহিনী : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

| ভারতের সাথে সীমান্ত : ৪১৫৬ কিমি। সূত্র : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ

| মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত :২৭১ কিমি। /সূত্র: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ

| আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা : ১২ নটিক্যাল মাইল ১ নটিক্যাল মাইল = ১.১৫ মাইল বা ১.৮৫৩ কিমি।

| সন্নিহিত এলাকা : ১৮ নটিক্যাল মাইল।

| অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা : ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিমি।

 ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু


I ভােগােলিক অবস্থান : ২০°৩৪ থেকে ২৬৩৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১ থেকে ৯২°৪১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

| ঋতু : ৬টি (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত)।


| ভূ-প্রকৃতি : পলি গঠিত সমতল ভূমি। ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা :
১. টারশিয়ারী যুগের পাহাড়ি অঞ্চল, ২. প্লাইস্টোসিন যুদগের সৌপান অঞ্চল ও ৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সা
। জলবায়ু : বাংলাদেশ ক্রান্তীয় জলবায়ু অ্চলে অবস্থিত। কিন্তু সমুদ্র সান্নিধ্য ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে।
এখানে শীত ও গ্রীষ্মের তীব্রতা খুব বেশি নয়।
। গড় তাপমাত্রা : ক. শীতকালীন তাপমাত্রা নিভেম্বর-ফেব্রুয়ারি] সর্বোচ্চ : ২৯° সে. এবং সর্বনিম্ন : ১১ সে.।
খ. গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা [এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ : ৩৪° সে. এবং সর্বনিম্ন : ২১ সে.।
| বৃষ্টিপাত অঞ্চল : সর্বোচ্চ সিলেটের লালাখাল এবং সর্বনিম্ন নাটোরের লালপুর।
গড় বৃষ্টিপাত : ২০৩ সেন্টিমিটার।
| স্থানীয় সময় : গ্রিনিচ মান সময় +৬ ঘণ্টা।
। প্রধান নদ-নদী : মেঘনা, পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, সুরমা, কর্ণফুলী প্রভৃতি।
অভিন্ন নদী: ৫৭টি (ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি এবং মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩টি)
সূত্র : বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন। ৫৮টি (ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৫টি এবং মিয়ানমার ও
বাংলাদেশের মধ্যে ৩টি) সূত্র : বাংলাপিডিয়া]।
| বনাঞ্চলের আয়তন : ২৫,০০০ বর্গকিমি (সূত্র : মাধ্যমিক ভূগােল; নবম-দশম শ্রেণিী; ৬২ লক্ষ একর (১৭.০৮%)।
। পর্যটন : বাংলাদেশে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত (কক্সবাজার) ও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোড
ফরেন্ট (সুন্দরবন)। তাছাড়া সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, হিরন পয়েন্ট, জাফলং, রাঙ্গামাটি, টেকনাফ,
শালবন বিহার, পাহাড়পুর এবং টঢাকার মুঘল আমলের স্থাপত্য কী্তি ছাড়াও প্রচুর দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
 জনসংখ্যা
| মােট জনসংখ্যা : ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ জন পঞ্চম আদমশুমারি ২০১১, ১৫ কোটি
৮৯ লাখ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭]; ১৬ কোটি ৪৭ লাখ। [UNFPA 2017]।
| নারী ও পুরুষের অনুপাত : ১০০ ঃ ১০০.৩ /অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭]।
| গড় আয়ু : ৭০.৯ বছর। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭]।
| জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার : ১.৩৭% (আদমশুমারি ২০১১; ১.৩৭% (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭; ১.১% [UNFPA 2017] ।
| জনসংখ্যার ঘনত্ব (প্রতিবর্গ কিমি) : ১,০১৫ জন পঞ্চম আদমশুমারি রিপাের্ট ২০১১; ১,০৭৭ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭।
1 ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা : ইসলাম ৯০.৪%, হিন্দু ৮.৫%, বৌদ্ধ ০.৬%, খ্রিষ্টান ০.৩%, অন্যান্য
০.১% পঞ্চম আদমশুমারি ২০১১]
| ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠী জনসংখ্যা (অনুমিত) : ১৫ লক্ষ.৮৬ হাজার ১৪১ জন (পঞ্চম আদমশ্ুমারি ২০১১।
| প্রধান ক্ষুদ্র ন-গাষ্ঠী : চাকমা, মারমা, মুরং, গারাে, লুসাই, পাংখােই, টিপরা, সীওতাল, খাসিয়া, মণিপুরী, মগ, কুকি ইত্যাদি।
 সরকার ও প্রশাসন
| সরকার পদ্ধতি : সংসদীয় পদ্ধতির সরকার। বহুদুলীয় গণতন্ত্র ও এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা, যার নাম
জাতীয় সংসদ। জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৫০। এর মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
৩০০ জন সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভােটে নির্বাচিত হন।
| মন্ত্রণালয় : ৪১টি (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ)
। বিভাগ : ৮টি (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল,
সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ)।
I জেলা : ৬৪টি।
। উপজেলা : ৪৯২টি (সর্বশেষ উপজেলা শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ (২০ নভেম্বর ২০১৭)।
| সিটি কর্পোরেশন : ১১টি।
| গ্রাম : ৮৭,১৯১টি (আদমশুমারি ২০১১)।
I পৌরসভা :৩২৮টি (এপ্রিল ২০১৮)।
| প্রথম রাষ্ট্রপতি : শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ এপ্রিল ১৯৭১-১২ জানুয়ারি ১৯৭২)

Sistunes.com -  মা-বাবার প্রতি আমাদের দ্বায়িত্ব কর্তব্য
SiSTunes.Com

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পিতামাতা তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম’। যদি কেউ পিতামাতার সেবা করতে পারে তাহলে সে জান্নাতে যাবে এবং সেবা না করলে অর্থাৎ অবাধ্য হলে সে জাহান্নামে যাবে।

মা কথাটি অতি মূল্যবান যা লিখে বা ভাষায় প্রকাশ করে বুঝানোর মতো নয় তবুও আমার এই লেখনির মাধ্যমে হয়তো আপনাদের একটু হলেও আমাদের জান্নাত , মানে আমাদের মায়ের সম্পর্কে একটু ধারনা দিতে পারব।

প্রথমে হাদীসটি দেখে নেই-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَا مِنْ وَلَدٍ بَارٍّ يَنْظُرُ نَظْرَةَ رَحْمَةٍ إِلَّا كَتَبَ اللهُ بِكُلِّ نَظْرَةٍ حَجَّةً مَبْرُورَةً “، قَالُوا: وَإِنْ نَظَرَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ؟ قَالَ: ” نَعَمْ، اللهُ أَكْبَرُ وَأَطْيَبُ “

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন কোন পিতা মাতার ভক্ত সন্তান নিজের পিতা মাতার প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দৃষ্টির বদৌলতে তার জন্য [আমলনামায়] একটি হজ্জ্বে মাবরূর [কবুল হজ্ব] এর সওয়াব দান করেন। সাহাবারা আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি দৈনিক একশবার দৃষ্টি করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তারও। আল্লাহ মহান ও পবিত্র। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৭৪৭২, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৪৫৫৩৫, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৯৪৪}

এ হাদিস থেকে আমরা খুব সহজেই বুজতে পারি যে, আমরা যদি আমাদের পিতা-মাতার প্রতি সদয় হই ও তাদের মনে কষ্ট না দেই তাহলে আমরা খুব সহজেই জান্নাত লাভ করতে পারি। 

আরে ভাই , আমরা এমনও মানুষ আছি যারা নিজের মা’কে শরীরে হাত পর্যন্ত তুলি। আমরা কেমন আদম সন্তান ? কোন জামানাতে আছি ? একবার ভেবে দেখুন । যে আপনাকে জন্ম দিলো তার সাথেই আজ এমন ব্যবহার করা কি আপনার ঠিক ?

যে না হলে আপনি হতেন না , দেখতেন না এই দুনিয়া , পূরণ করতে পারতেন না এত রঙ্গীন স্বপ্ন । একদিন এমনও তো হতে পারে আপনার সন্তান আপনার প্রতি ব্যবিচার ও জুলুম চাপাতে পারে। মহান আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত দান করুক।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমের বিভিন্ন জায়গায় পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার, উত্তম আচরণ এবং দোয়া করার পদ্ধতি ও নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর তা হলো-

উচ্চারণ : ‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।’ (সুরা: বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৪)

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন; যেমনিভাবে তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’

আমি ‍দেখেছি অনেক মা আছেন যারা আজও দু-বেলা দু-মুঠো খাবার না পেয়ে মুখ লুকিয়ে কাঁদে । সেই সন্তানের প্রতি আমার আল্লাহ কখনই খুশি হবেন না ,বরং গজব বিস্তার হতে পারে । 

Sistunes.Com - মা বাবা নিয়ে হাদিস
দুঃখে ব্যাথিত মা-বাবা


সময় থাকতে মা বাবার খেয়াল রাখুন । মা বাবাকে খুশি রাখতে পারলে মহান আল্লাহ তা’আলা খুশি হবেন । আজ যারা মা-বাবাকে হারিয়েছেন তারা হয়তো মা-বাবার উসিলা করে আর কোন সওয়াব পাবেন না কিন্তু তাদের জন্য যত পারেন দো’আ করেন । মায়ের দিকে একবার  নেক নজরে তাকালে যদি বেহেশত পাওয়া যায় তাহলে কেন আপনি  মক্কা-মদিনাতে বেহেশত খুজেন? হ্যা, আমি বলছি না যে আপনি মক্কা-মদিনাতে যাওয়ার দরকার নেই। আপনি যেতে পারেন । তবে নিজের ‍ৃঘরের মা’কে কষ্ট দিলে কি আপনার পুন্য হবে ? একবার ভেবে দেখুন তো …. আপনার মা আপনার ভালোর স্বার্থে কি না করেছেন তিনি ? ছোট ছোট কথাতে নিজের মা’কে কিন্তু  খুশি রাখা যায়। এমন কোন কথা বলবেন না যেন আপনার মা কষ্ট পায়। আপনার মা-বাবা যদি আপনার দ্বারা সুখি না হয় তাহলে আপনার এ মানব জনম বৃথা বলে মনে করবেন। 

আপনার মা-বাবার জন্য দোয়া করবেন বছরে একদিন না, প্রতিদিন এবং সবসময়। আর প্রতি বছর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা ঠিক নয়।মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, মানুষ মরে গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি কাজ চলতে থাকে। সেগুলো হচ্ছে- সদকায় জারিয়া, ইসলামিক জ্ঞান এবং নেক সন্তান যদি মা-বাবার জন্য দোয়া করে যায় তাহলে সেই দোয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা এই দোয়া কবুল করেন

সবশেষে এইটুকু বলব যে, ওইযে মহান আল্লাহ আমাদের মা-বাবাকে জান্নাতের একেকটা ফুলে রূপান্তরিত করুক (আমিন)।


এ পর্যন্ত আমার কথায় কেউ আঘাত পেলে ক্ষমার দৃষ্টিতেই দেখবেন। 




বিখ্যাত আমেরিকান কবি অড্রিয়ান রিচ। বাল্টিমােরের মেরি ল্যান্ডে ১৯২৯ সালে ার জন্ম।
র্যাডক্লিফ কলেজে তিনি শিক্ষাপ্রাপ্ত হন। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে তার প্রথম কবিতার বই এ
চেঞ্জ অব ওয়া্ল্ড (১৯৫১) ছাপা হয়। তারা ছিলেন তিন বােন। অড্রিয়ান ছিলেন সবার ছােটো।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পিতার ইহুদি ব্যাকগ্রাউন্ড ও মাতার দক্ষিণী প্রটেস্ট্যান্টিনিজম দ্বারা
বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
১৯৫৩ সালে তিনি অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড, কনরাডের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তাদের তিনটি সন্তান জন্মে।
রিচের কবিতাগুলােতে রাজনীতি, ক্ষমতার বিভাজন এবং নিজস্ব জগতের ছায়া পড়েছে।
তার সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি অনেক পদক ও খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।
অড্রিয়ান রিচ তার জেনিফার চাচির বাঘগুলাে, কবিতাটিতে অবচেতনভাবে রূপকের
সাহায্যে নারীর বন্দিজীবনের, বিশেষ করে সংসার বেড়াজাল ও পুরুষের শেকলে আবদ্ধ থাকার
ছবি তুলে ধরেছেন। কবিতাটিতে বাঘের রূপকে তিনি একজন নারীর ক্ষোভ ও বেদনা এবং
বন্দিদশা হতে মুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
কবিতাটিতে সমাজে নারীর বাস্তব অবস্থানের চিত্রটিও তুলে ধরেছেন রিচ। জেনিফার চাচি
তার হাতে বিয়ের আংটি ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি তার হাতে গুরুভার হয়ে বসে গেছে।
যে বেড়ি হতে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রেহাই পাননি তিনি। রিচ অপূর্ব দক্ষতায় সমাজে নারীর
পরিণতির কথা চমৎকার ভাষায় বর্ণনা করেছেন রূপকের সাহায্যে। বাঘকে তিনি শক্তির প্রতীক
হিসেবে ব্যবহার করেছেন।



ইয়কশায়ারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এক উপত্যকা এলাকায় ১৯৩০ সালের ১৭ আগস্ট টেউ
হিউজের জন্ম। তাঁর বাবা উইলিয়াম হিউজ কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিন ভাই-বােনের মধ্যে
চেড ছিলেন সবার ছােটো। ছােটোবেলা থেকেই তিনি নির্জন পরিবেশে নিঃসঙ্গ দিন কাটাতেন।
বন্ত্রশহর বলে খ্যাত ল্যাংকাশায়ার এবং পশমের জন্য বিখ্যাত পশ্চিমের অন্ধকার উচু
পাহাড়ে ঢাকা ছায়াময় পরিবেশে ছােটো কারখানাগুলাে টেডের বুকে পাথরের বােঝার মতাে চেপে
থাকত সব সময়। এখান থেকে পালানাের কথা মাঝে মাঝে ভাবতেন তিনি। তিনি ভাবতেন বাড়ি
থেকে পালিয়ে সীমানা ছাড়িয়ে দূরে কোথাও চলে যাওয়ার মতাে আনন্দ আর কিছুতে নেই।
টেডের যখন সাত বছর বয়স তখন তার পরিবার বাড়ি বদল করে দক্ষিণ ইয়র্কশায়ায়ের
ম্যাকস্বরােতে চলে যায়। এখানে এসে টেডের হৃদয়ে দুটি বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া কাজ করে।
একটি হলাে শহরের ধনী পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে স্কুলে অধ্যয়ন, নাগরিক জীবনের ক্লান্তিকর
যান্ত্রিকতায় আটকে থাকা; অন্যটি প্রকৃতির মাঝে নিজেকে অবাধে মিশিয়ে দেয়া।
পনেরাে বছর বয়সে টেড প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৯৪৮ সালে বৃত্তি পেয়ে ক্যামব্রিজে
ভর্তি হন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীতে মেকানিক হিসেবে চাকরিতে
যােগদান করেন। এই চাকরি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "শুধু সারা দিন শেকসপিয়ার পড়া আর সবুজ
ঘাসগুলাের বেড়ে ওঠা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা", এ ছাড়া আর কোনাে কাজ ছিল না।
এরপর আবার ১৯৫৪ সালে ক্যামব্রিজে ফিরে এসে স্নাতক হন। বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকায়
তার প্রথম কবিতা, "The little boys and the seasons" ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়। এ
সময় টেড ডিলান টমাসের কবিতায় ডুবে থাকতেন, এমনকি ডিলান টমাসের অধিকাংশ
কবিতাই ছিল তার কণ্ঠস্থ। ১৯৫৪ সালে টেডের "The Jaguar" এবং The Casualty"
নামক দুটি কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া জাগে ।
জীবিকার কারণে টেড হিউজ এ সময় নানা ধরনের ছােটোখাটো কাজকর্ম করেন। শেষে
অনেক চেষ্টা-তদবির করে একটি স্কুল শিক্ষকের চাকরি পান। কয়েক জন সাহিত্যিক বন্ধুর
সহায়তায় একটি পত্রিকাও বের করেন। এই পত্রিকার এক সান্ধ্য আড্ডায় মার্কিন কব
সিলভিয়া প্লাথের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। সিলভিয়া ছিলেন খুবই মেধাবি ছাত্রী। মার্কিনি ডিম
নেয়ার পর ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে ক্যামব্রিজে এসেছেন। ১৯৫০ সাল থেকেই নানা পত্রপত্রিকায়
সিলভিয়ার লেখা প্রকাশিত হয়ে আসছিল। টেডের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তিনি প্রতিষ্ঠিত
কবি, বয়সে সিলভিয়া টেডের চেয়ে দু বছরের ছােট। পরিচয়ের চার মাসের মাথায়ই তারা বিয়ে।
করেন এবং লিখে আর কবিতা পাঠ করে দু জনে সময় কাটাতে থাকেন। কিন্ु কয়েক বছরের
মধ্যেই তাদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়ে যায় এবং দুটি শিশুসন্তান নিয়ে সিলভিয়া।
আলাদা বাস করতে থাকেন। মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে সিলভিয়া নিজের ফ্ল্যাটে গ্যাসের চুলায়।
মাথা ডুবিয়ে আত্মহত্যা করেন।



১৯১৪ সালে ২৭ অক্টোবর দক্ষিণ ওয়েলসের সােয়ানসি নামক এক সমুদ্র উপকূলবৃ্তী শহরে
ডিলান টমাসের জন্ম। তিনি ইংরেজি কবিতায় আলাদা একটি নীতিধর্মী বারার সূচনা করেছেন।
সােয়ানসির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকায় তাঁর সুখী শৈশবকাল অতিবাহিত হয়।
পরবৃর্তীকালে তিনি লন্ডনে চলে যান। কিছুকাল পরে তিনি আবার ওয়েলসে এসেই নিবাস
গড়েন। ওয়েলসের প্রকৃতি তার কবিতায় যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন
"Eighteen Poems" ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়, যখন তার বয়স মাত্র কুড়ি। জীবন ও
জগৎকে দেখার তাঁর নিজের একটা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। কবির নিজের কথায়, "আমার
কবিতা লেখা হয়েছে, মানুষের ভালােবাসা আর ঈশ্বরের করুণাকে আশ্রয় করে। তাঁর অন্যন্য
কাব্যগ্রন্থগুলাে হচ্ছে 25 Poems' (1936), "The Map of Love' (1939), New
Poems' (1943)। তাঁর মৃত্যুর এক বছর পরে 'Collected Poems' প্রকাশিত হয়।
বিশ শতকের অন্যতম এই ব্রিটিশ কবি ১৯৫৩ সালে লােকান্তরিত হন।



১৮৭৪ সালের ২৬ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়াতে রবার্ট ফ্রস্টের জন্ম। নিউ ইংল্যান্ডের একটি প্রাচীন
বনেদি পরিবারের সন্তান তিনি। ১৬৩২ সালে তার পূর্বপুরুষেরা এই অঞ্চলে এসেছিলেন।
সতেরাে বছর বয়সে তিনি লরেন্স হাইস্কুল হতে গ্রাজুয়েট হন। তার প্রথম দুটি কবিতার বই
ইংল্যান্ড থেকে ছাপা হয়। তার গীতিধর্মী কবিতাগুলাে খুবই আকর্ষণীয়। কোনাে কোনাে
সমালােচক বলেছেন, তাঁর কবিতাগুলাে বক্তব্যপ্রধান, তাঁর কটি বইয়ের নাম থেকেই এর প্রমাণ
পাওয়া যায়। যেমন 'নর্থ অব বােস্টন', মাউন্টেন ইন্টারভ্যাল', 'নিউ হ্যাম্পশায়ার ইত্যাদি।
মােট কথা, দেশের একটি অংশকে তিনি তার আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। এত বেশি
আঞ্চলিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কবিতা বলা যায় সর্ব-গুণে গুণান্বিত ।
1.
রবার্টের যখন বয়স দশ বছর, তখন তার বাবা মারা যান। এরপর তিনি মায়ের সঙ্গে নিউ
ইংল্যান্ডে ফিরে যান, সেখানে স্বাধীনভাবে মানুষ, হন। বারাে বছর বয়স থেকে তিনি নানা
ধরনের দৈহিক কাজে নিয়ােজিত থেকেছেন, জুতার দোকানে কাজ করেছেন, পশমের ববিন
বােঝাই গাড়ি ঠেলেছেন এবং আরাে নানাবিধ কর্মে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন। "এ বয়েজ
উইল" তাঁর প্রথম কবিতার বই। তাঁর "নর্থ অব বােস্টন বইটি সম্পর্কে উইল ফ্রিড উইলসন
মন্তব্য করেছিলেন, "ফ্রস্ট নর-নারীর মুখের কথাকে কাব্যে রূপান্তরিত করেছেন। দুর্বল কোনাে
কবির হাতে এসব কথা শুধু উপকথাই হত, ফ্রস্ট তাদের অসাধারণ তাৎপর্য প্রদান করেছেন।
কবিতার জন্য ফ্রস্ট চারবার পুলিৎজার পুরস্কারে সম্মানিত হন।
১৯৬৩ সালে এই খ্যাতিমান কবি লােকান্তরিত হন।


১৮৬৫ সালের ১৩ জুন উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জন
বাটলার ইয়েটস ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। তিনি তাঁর পারিবারিক পেশা আইরিশ চার্চের
পৌরহিত্যকে পরিত্যাগ করে প্রথমে আইন ব্যবসায় যােগ দেন এবং ব্যরিস্টার হিসেবে প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করেন। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এ পেশা থেকে সরে গিয়ে নিজেকে শিল্পী হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি একজন খ্যাতিমান শিল্পী হিসেবে
পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীকালে ইয়েটসের বাবা জন ইয়েটস একাই লন্ডনে চলে যান।
১৮৭৬ থেকে ১৮৮০ পর্যন্ত ইয়েটস হ্যামারস্মিথের গােডােলফিন বিদ্যালয় এবং ১৮৮০
থেকে ১৮৮৩ পর্যন্ত ডাবলিনের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশােনা করেন। পিতার
খামখেয়ালিপনা তার রক্তে ছিল, এজন্য তিনি ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি না হয়ে মেট্রোপলিটন আর্ট
স্কুলে ভর্তি হলেন। এখানে কিছুদিন থাকার পর মনে হল, তাঁর উপযুক্ত বিচরণস্থল হল কবিতা
১৮৮৫ সালের মধ্যেই তাঁর কিছু কবিতা ডাবলিন ইউনিভার্সিটি রিভিউ পত্রিকায় ছাপা হয় এবং
তিনি আইরিশ রেনেসার প্রবাদপুরুষ John O' Leary-এর দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হন।
খুব উঁচুমানের না হলেও তাঁর প্রথম দিকের ছাপা কবিতাগুলােই তাকে কবিখ্যাতি এনে
দেয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। স্বাভাবিকভাবেই যুগের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁর কবিতায় এক ধরনের
পার্থিব ক্লান্তি আর একঘেয়েমির ছাপ ধরা পড়ে। এ ধারার সূচনা হয়েছিল ১৮৮০ সাল
থেকেই। কবির প্রথম দিকের কবিতাগুলােকে কেন্টিক গােধূলির কবিতা বলা হয়ে থাকে। তাঁর
এ সময়ের কবিতাগুলােতে কেন্টিক কিংবদন্তির নানা চরিত্র নানাভাবে এসেছে। পার্থিব ক্লান্তি
এবং জাগতিক একঘেয়েমি থেকে মুক্তির প্রয়াস এ কবিতাগুলােতে লক্ষ করা যায়।
পরবর্তীকালে ইয়েটস নিজেকে একজন স্বপ্লচারী, ভাবালু এবং অতীতপ্রিয় কবি থেকে উত্তরণ
ঘটিয়েছেন সময়ের একজন কবি হিসেবে।
মডগন নামের একজন রূপসী বিপ্লবী অগ্নিকন্যা ইয়েটসের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেন।
১৮৯৪ সালে ইয়েটস মডগনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখাত হন। পরবর্তীকালে ইয়েটস
মালার্মে ও ভের্লেনের সঙ্গে পরিচিত হন। এই পরিচয় তাঁকে আধুনিক ইংরেজি কবিতার গ্রদূত
হিসেবে আত্মপ্রকাশে যথেষ্ট সহায়তা প্রদান করে।
কবিপ্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯২৩ সালে ইয়েটস নােবেল পুরস্কারে সম্মানিত
হন। ১৯৩৯ সালের ২৮ জানুয়ারি এই প্রতিভাধর কবি পরলােকগমন করেন।



১৮৩০ সালের ১০ ডিসেম্বর আমেরিকার আমহাস্্ট নামক একটি ছােট শহরে এমিলি ডিকিনসন

জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এডােয়ার্ড ডিকিনসন ছিলেন একজন নামকরা আইনজীয।

কংগ্রেসের সদস্য এবং আমহাস্্ট কলেজের কোষাধ্যক্ষ ও ট্রাস্টি বাের্ডের অন্যতম সদস্য। তাঁ

পিতা কর্তব্যকর্মে ছিলেন খুবই সচেতন, আমহাস্্ট শহরের একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

তিনি তার কাজকর্মে কখনােই ভাবাবেগকে প্রশ্রয় দিতেন না।

.

এমিলির প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় নিজ গৃহে। প্রায় এক বছরকাল তিনি নিজ গৃহেই শিক্ষা

গ্রহণ করেন। মাউন্ট হলিয়ক ফিমেল সেকেন্ডারি বিদ্যালয়টি তাদের বাড়ি থেকে ছিল প্রায় দশ

মাইল দূরে। এমিলি মাউন্ট হলিয়ক ফিমেল- সেকেন্ডারিতে ভর্তি হলেন, কিন্তু বিদ্যালয়ের

কঠোর নিয়মানুবর্তিতা তার সহ্য হল না, তিনি বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করলেন। এমিলি

ছিলেন মুক্তমনা। এ কারণে বিদ্যালয়ের নিয়মকানুনের সাথে তিনি নিজেকে মানাতে পারেননি।

আমহাস্ট্টে ফিরে এলেন ডিকিনসন। জানা যায় যে, তিনি তার পিতার শিক্ষানবিশী বেন।

নিউটন নামের এক যুবার প্রেমে পড়েন। সে যুবকটি এমিলিদের গৃহেই থাকত। বেন নিউটনের

প্রতি এমিলি আকৃষ্ট হন যে কারণে তা হল, যুবকটি শিল্প সাহিত্যের অনুরাগী ছিল। এমিলির

বাবা যুবকটির রিয়ের প্রস্তাব মেনে নেননি, কারণ বেন নিউটন ছিলেন খুবই দরিদ্র। এর পাঁচ

বহর পরেই বেন নিউটন ক্ষয় রােগে মারা যান।

১৮৫৪ সালে এমিলি নিউইয়র্কে গেলেন তাঁর, পিতার সাথে; সাক্ষাৎ করতে।

ফিলাডেলফিয়াতে এমিলির সাথে চার্লস ওয়ার্ডওয়ার্থ নামক এক যুবার, সাথে সাক্ষাৎ হয়।

জনশ্রুতি অনুযায়ী এমিলি তার প্রেমে পড়েন এবং বিয়ে করেন।

এমিলির মাঝে শিল্প সাহিত্যের স্পৃহা জাগ্রত হয় ছেলেবেলা থেকেই। তার পিতার ছাত্র

বেন নিউটন এটিকে আরাে অনেক দূর পর্যন্ত . অগ্রসর করে দেয়। পরবর্তীতে চার্লস

ওয়ার্ডওয়ার্থকে বিয়ে করলেও বেনের স্মৃতিকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি এমিলি।

সর্বদা একটা বেদনা বােধ ভেতরে ভেতরে কাজ করেছে তাঁর মধ্যে। প্রচুর কবিতা লিখেছেন

তিনি। প্রকৃতির ছােটখাটো বিষয় আর সাধারণ ঘটনাকে অবলম্বন করে। তার কবিতাগুলােতে

মধুর এক গীতিধর্মিতা সর্বদা খেলা করে। সাধারণ চোখে দেখা একটি বিষয়কেও তিনি

অসাধারণত্ব দান করেছেন।

১৮৬২ সালে এমিলি ডিকিনসনের জন্য একটি উল্লেখযােগ্য সময়, এ সময় কম করে

হলেও তাঁর ৩৬২টি কবিতা লেখা হয়। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৪ সালের মধ্যে এমিলি প্রায় সাতশ্ত

পঞ্চাশটি কবিতা রচনা করেন।

এমিলির কবিতাগুলােতে তার একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তাচেতনার স্কুরণ ঘটেছে। ছােট ছােট

কবিতাগুলােতে তার নিজস্ব জগতের ছায়াপাত ঘটেছে। সাধারণ একটি বিষয়কে নিজস্ব।

দৃষ্টিভঙ্গিমার দ্বারা অসাধারণত্বের পর্যায়ে নিয়ে গেঁছেন।

সবচেয়ে অবাক ব্যাপার এই যে, এবং যেটি আজও আমাদের ভাবায় তা হল, এমিলি

জীবিতকালে তার কোনাে কবিতা প্রকাশ করেননি। ১৯২০ সালের পূর্বে তিনি অজ্ঞাতই ছিলেন

বলা যায়। ১৯২৪ সালে মার্থা বিয়ামচি এমিলির কবিতাগুলাে থেকে বেশ কিছু কবিতা বাছাই

করে একটি নির্বাচিত কবিতার সংকলন প্রকাশ করেন। ১৯৪৫ সালে এমিলির প্রতিবেশী মিসেস,

মার্বেল টড ও তার কন্যা মিলিসেন্ট টড 'বােল্ট অব মেলােডি' নামে ছয়শত আটষট্টিটি কবিতা

নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করেন। জানা যায়, এমিলির জীবিত অবস্থায় কী করে যেন হঠাৎ

করে সাতটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল।

তার ছােট ছােট গীতিধর্মী কবিতাগুলাে বিশ শতকের কবিতার প্রবহমান ধারায় যেন

হাজারাে নক্ষত্রের মতােই দীপ্যমান।

১৮৮৬ সালে এই মহান প্রতিভা লােকান্তরিত হন।





তিনি ছিলেন পিতা-মাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর পিতা ছিলেন রাগবি বিদাযালয়ের
নামকরা প্রধান শিক্ষক। ম্যাথু আর্ন্ড শিক্ষালাভ করেছেন রাগবি বিদ্যালয়, বালিওল কলেজ
এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। অক্সফোর্ডে পাঠরত অবস্থায়ই তাঁর পিতৃবিয়ােগ ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি কিছুদিন পিতার বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন
এবং ওই সময় তিনি ওরিয়েল কলেজের ফেলােশিপ পান। কিন্তু এ কর্মে তিনি নিজেকে বেশি
দিন স্থির রাখেননি, কারণ শিক্ষকতা পেশাটাকে তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না। এরপর
তিনি ইংল্যান্ডের শিক্ষাবিভাগের প্রধান কর্মকর্তার প্রাইভেট সেক্রেটারি নিযুক্ত হলেন। ঠিক এ
সময়েই তিনি দ্যানি লুসি নামের এক তরুণীর প্রেমে পড়েন। দ্যানির বাবা ছিলেন হাইকোর্টির
১৮২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর লেক ডিস্ট্রিক্টির লালিহাম নামক স্থানে ম্যাথু আর্ন্
আর্ন্ডকে চাকরির
প্রধান বিচারপতি। দ্যানির পিতা আর্নল্ডকে শর্ত প্রদান করলেন যে,
আরাে ওপরে অবস্থান করতে হবে। এতেই দ্যানিকে পাওয়া সম্ভব। ম্যাথু আর্ন্ড ল্যাসডাউনকে।
অনেক ধরাধরি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের চাকরি পেলেন এবং দ্যানি লুসিকে দি
করে সুখে সংসার পাতলেন। চাকরি ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট যােগ্যতার পরিচয় প্রদান
করেছিলেন। ১৮৫৭ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নিযুক্ত হন কিন্তু চাকরি
ত্যাগ করেননি। তার লক্ষ্য ছিল অনেক উর্ধে। তিনি প্রধানমন্ত্রী গ্ল্যাডস্টোনের প্রীতির প্রতি
সমর্থন জানিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। তিনি আশা করেছিলেন তিনি রাষ্ট্রদূত হবেন। কি্ন
তার সে আশা সফল হয়নি। তবে পরবর্তীকালে তিনি শিক্ষাবিষয়ক কমিশনার নিয়ন্ত
হয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২৫০ পাউন্ড করে অবসর
ক্ষেত্র ভাতা পেতে থাকেন।
১৮৪৯ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দি স্ট্রেড রেভেলার অ্যান্ড আদার পােয়েমস প্রকাশিত
হয়। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এমপিডােক্লিস অন এটনা অ্যান্ড আদার পােয়েমস প্রকাশিত হয়
১৮৫২ সালে। তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালে এবং চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ নিউ
পােয়েমস' প্রকাশিত হয় ১৮৬৭ সালে।
আর্নন্ড যে যুগে জন্ম গ্রহণ করেন সে সময়টা হচ্ছে টেনিসন, ব্রাউনিংয়ের সময়। সে
সময়ে বস্তুবাদী জীবন ভাবনায় ব্রাউনিং অগ্নলিশিখার মতাে জুলে উঠেছিলেন আর আর্ন্ বাস্তর
জীবনের স্বরূপ দেখে মেতে উঠেছিলেন, কিন্তু নতুন কোনাে ভাবনার ভিত তৈরি করতে
পারেননি তিনি।
ম্যাথু আর্ন্ড ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। মানবজীবন্ে
বিশাল ক্ষেত্র হতে নিজেকে বিছিন্ন করে তিনি আত্মকেন্দ্রিক জীবন বেছে নিয়েছিলেন। এ ই
জীবনে তিনি দুটি দিক থেকে রীতিমতাে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। একটি তার প্রেমিকা মাগ্গারেট
এবং অন্যজন গ্ল্যাডস্টোন, যার ফলে তার মাঝে কিছুটা হতাশা আর নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছিন।
গ্রিক সাহিত্যে পণ্ডিত ছিলেন আর্নল্ড, কিন্তু পুরােপুরি নিজেকে গ্রিক ভাবনায় জড়িত করতে
পারেননি। কারণ পূর্ণাঙ্গ আস্থার অভাব। পরিশ্রমের ছাপ লক্ষ করা যায় তার
সাহিত্যকর্মগুলােতে। রচনাকে মেজেঘষে তিনি সর্বদা একটা পরিচ্ছন্ন মার্জিত রূপ প্রদান করার
প্রয়াস পেয়েছেন। তবে আর্ন্ড যতটা জীবনভাবনায় সচেতন ছিলেন ততটা জীবনশিল্পী ছিলেন
না। সমালােচকের মেজাজে তিনি কাব্য রচনা করেছেন। আর এ কারণেই তিনি বলতে
পেরেছিলেন, Art is criticism of life". সমালােচনা করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই রূঢ় বাস্ত
বের মুখােমুখি হয়েছেন, যার ফলে জন্ম নিয়েছে হতাশা। যে কারণে তার কবিতায় হতাশার
সুরটি স্পষ্ট।
:-
ডােভার বিচ কবিতায় কবি ডােভার সমুদ্রতটের শান্ত নির্মল সৌন্দর্যে নিজেকে পুরােপুরি
অবগাহন করাতে পারেননি। কারণ একটিই, কঠিন রূঢ় বাস্তবের সাথে তার বিরুদ্ধতা।
সমুদ্রতীরের সৌন্দর্য উপভােগকালীন সময়ই তার মাঝে কঠিন বাস্তবের ছবি এসে হানা
দিয়েছে। তিনি অনুভব করলেন, কোথাও শান্তি নেই, নেই আনন্দ নেই কোনাে আশার আলাে।
তার মনে হয়েছে পুরাে জগৎ্টাই অন্ধকারে আবৃত। এই অন্ধকারেই চলছে হানাহানি আর
সংঘাত।
"And we are here as on a darkling plain
Swept with confused alarms of struggle and flight.
Where ignorent armies clash by night."
মােট কথা বাস্তব জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়েই নিয়েছিলেন বলা যায়।
আর্নল্ডের কবিতাগুলােতে হতাশা আর নৈরাজ্যের সুর ধ্বনিত হলেও, এই নৈরাজ্য থেকে
ডা্থত আবেগ ও কামনা, দীর্ঘশ্বাস, ব্যথাবেদনা আলাদা একটি আবাহ তৈরি করে।
আনন্ডের বড়াে কন্যা লুসি আসছে আমেরিকা থেকে। তাকে বরণ করার জন্য গিয়েছিলেন
লিভারপুলে। সেখানে একটি বেড়া ডিঙাতে গিয়ে তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে যান এবং মৃত্যু এসে
কালাে ছায়া ফেলে তার ওপর। ১৮৮৩ সালে এই মহান কবি পরলােকগমন করেন।



বর্তমান সময়ে টমাস হার্ডির কবিখ্যাতির চাইতে ঔপন্যাসিক হিসেবেই পরিচিতি সর্বত্র। অথচ
তিনি তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু করেছিলেন কবিতা দিয়েই। পাঠককুলের নানা প্রতিকূলতার
কারণে তিনি তাঁর শেষ উপন্যাস "জুডস দ্য অবস্কিউর লিখেই জীবনের পরবর্তী ত্রিশ বছর
কবিতার জগতে নিজেকে মেলানাের চেষ্টা করেন। ভিক্টোরিয়ান. পর্বের অন্যান্য কবির মতাে
হার্ডি এতটা খ্যাতিমান না হলেও বিশ শতকের প্রথম দিকে মােটামুটি কবিখ্যাতি অর্জন করেন।
তাঁর কবিতায় মানবিক দিক, বিশেষ করে মানুষের হৃদয়ঘটিত নানা দুঃখ, বেদনা, হতাশা এবং
ক্ষতির বেদনা মূর্ত হয়ে উঠেছে।
হার্ডির জন্ম দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডর্চেস্টারে, ১৮৪০ সালে। তিনি তার উপন্যাসে এ
স্থানটিকে ওয়েসেক্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্থাপত্যবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন। এ
বিষয়ে আরাে পড়াশােনার জন্য তিনি ১৮৬১ সালে লন্ডনে যান এবং তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
১৮৬৮ সালে তিনি তাঁর প্রথম উপন্যাস প্রকাশকের হাতে তুলে দেন, কিন্তু তা বাতিল বলে গণ্য
হয়। হার্ডি নতুন উদ্যমে ১৮৭১ সালে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস রচনা করলেন। "ডেসপারেট
রেমিডিস নামে তা প্রকাশিত হয়। একই বছর তাঁর আরাে উপন্যাস বের হয়। এরপর তিনি
স্থপতির পেশা ছেড়ে দিয়ে পুরােপুরি লেখালেখিতে মনােনিবেশ করলেন। ১৮৭১ থেকে ১৮৯৬
পর্যন্ত তাঁর এই উপন্যাস রচনার ধারা অব্যাহত থাকে। পরবর্তীকালে তিনি কবিতা রচনায়
নিজেকে নিয়ােজিত করেন।
66
হার্ডির, কবিতাগুলােতে প্রাচীন গ্রামীণ জীবনব্যবস্থার ছবিগুলাে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে।
১৯২৮ সালে এই বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ও কবি পরলােকগমন করেন। অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী
তাঁর দেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়।



১৮১২ সালে কোমবারওয়েল নামক স্থানে রবার্ট ব্রাউনিং জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ব্যাংক
অব ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শৈশবকাল থেকেই তিনি ছিলেন মুক্ত ও স্বাধীন এবং নান
বিষয়ে পড়াশােনার ক্ষেত্রেও ছিল না কোনাে বাধা। মাত্র বারাে বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা
লেখা শুরু করেন। কবি শেলি তার ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ইউনিভার্সিটি
কলেজের সংক্ষিপ্ত পাঠ সমাপ্ত করে তিনি কিছুদিন রাশিয়ায় ভ্রমণ করেন এবং ইংল্যান্ডে স্থায়ী
হন। ১৮৩৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতাে ইতালি ভ্রমণ করেন। ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্স ও
ইতালি ভ্রমণ তাঁর কবিতাকর্মে বিশেষ প্রভাব ফেলে। ১৮১৬ সালে তার স্ত্রী গত হন এবং
একমাত্র পুত্রের সঙ্গে তিনি বাস করতে থাকেন। ইতালিতে তিনি দেহত্যাগ করেন। বিবিধ
বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন এই কবি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানুষের আত্মিক বিষয়ের
অনুসন্ধান। মানুষ, প্রকৃতি এবং মানবাতআর বাণী- এসবই তাকে বেশি করে টানত। মানুষ
ঈশ্বর ও প্রকৃতি- এ তিনটি বিষয়ে তার নিজস্ব দর্শন ছিল। ১৮৮৯ সালে এই মহান কবি
ভেনিসে লােকান্তরিত হন। ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
বর্তমান কবিতাটি ১৮৪২ সালে তার ড্রামাটিক রােমান্স' গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। মাই লাস্ট
ডাচেস' কবিতাটি কবি ব্রাউনিংয়ের রেনেসাঁস বিষয়ে চিন্তাভাবনা ও পড়াশােনার ফসল। বিশেষ
করে ইতালিতে থাকাকালীন এ ভাবনা তার মাঝে জাগ্রত হয়।
কবিতাটিতে বংশগৌরবে গর্বিত একজন ডিউক তার বিগত পত্নীর ছবির সামনে দাঁড়িরে
কথা বলছেন। নতুন করে ডিউকের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে দূত, কনে এক কাউন্ট তনয়া।
দুতের সামনে ডিউক তার পত্নীর রূপ-জৌলুস, তার আচার-আচরণ সবই বর্ণনা করছেন। তয়
স্ত্রীর ছবিটা যে এখনাে জীবন্ত এটাও বলছেন। পােশাকের আড়াল হতে তার যে রূপসুষমা ফুটে
উঠেছে তার বর্ণনা দিচ্ছেন। এমনকি তার নিজের বংশগৌরবের কথাও বলতে ভুলছেন
এখানে আমরা একজন আত্মগর্বী ও বংশগৌরবে গর্বিত কঠিন হৃদয়ের ডিউকের সাক্ষাৎ প
যার অতি নীতিবাদী আদর্শের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেনি ডিউকপত্নী, যার কারণেই
না।
হয়ত নিদারুণ হতাশা নিয়ে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে পৃথিবী থেকে।



১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দের লিংকনশায়ারের সােমারসবি নামক স্থানে টেনিসন, জন্মগ্রহণ করেন। তার
পিতা ছিলেন গির্জার পাদ্রি। ১৮২৮ সালে টেনিসন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
সেখানকার কৃতী ছাত্র ছিলেন তিনি। টিমবাকতু শিরােনামে কবিতা লিখে ১৮২৯ সালে তিনি
চ্যান্সেলর পদকপ্রাপ্ত হন। ডিগ্রি গ্রহণ করার আগেই তিনি ক্যামব্রিজ ত্যাগ করেন। এর আগেই
তার একটি ছােট কবিতাপুস্তক বের হয়। সতের বছর বয়সে টেনিসন তার বড় ভাইয়ের
সহযােগিতায় ১৮২৭ সালে বের করেন কবিতার বই পােয়েমস বাই টু ব্রাদার্স। পুরস্কার
পাওয়া টিমবাকতু' বের হয় ১৮২৯ সালে। "চিফলি লিরিক্যাল গ্রন্থটি বের হয় ১৮৩০ সালে।
১৮৩৩ সালে বের হয় পােয়েমস'। তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হচ্ছে দি লেড়ি অব শ্যালােট
ইনােনি', 'দি লােটাস ইটার', 'দি প্যালেস অব আর্ট' ইত্যাদি। চিত্রকল্পময় তার কবিতাগুলাে
ইংরেজি সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে আজো সারা বিশ্বে আদৃত। তার কবিতাশুলােতে
ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিক দৃশ্য চিরস্তন মহিমায় উদ্ভাসিত। গভীর আবেগ এবং উপলব্ধির সাথে
মিশেছে নানা রূপকল্প। এ কারণেই টেনিসনের কবিতা উত্তীর্ণ হয়েছে কালজয়ী শিল্পকর্মে।
১৮৯২ সালে এই মহান কবি লােকান্ভরিত হন।



১৭৯২ সালের ৪ আগস্ট ইংল্যান্ডের হােরসাম সাসেক্সের নিকটবর্তী ফিল্ডপ্লেস নামক স্থানে
ইংরেজি ভাষার বিখ্যাত কবি শেলি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা টিমােথি শেলি ছিলেন একজন
ধনাঢ্য ব্যক্তি। প্রচুর সহায়সম্পদ ছিল তার। শেলির প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় বােনদের
তত্ত্বাবধানে নিজ গৃহেই। ১৮০২ সালে শেলিকে ভূর্তি করে দেয়া হয় ব্রেন্ট দোউ, সিওন
হাউজে। এখান থেকে তাকে নেয়া হয় এটনে, সময়টা ১৮০৪ সাল। এই এটনেই তিনি
বিদ্যালয়ের পড়াশােনা শেষ করেন। ১৮০৮ সালে শেলি অক্সফোর্ডে ভর্তি হন, সেখানে তাঁর
পাঠ্যবিষয় ছিল ধর্ম ও দর্শন। ভাগ্যের পরিহাস, এখানে বেশি দিন টিকতে পারলেন না। ১৮১১
সালে তিনি "নাস্তিকতার প্রয়ােজনীয়তা" নামে একটি পুস্তিকা লিখে বেনামিতে বাজারে ছাড়েন।
চারদিকে রীতিমতাে আন্দোলন শুরু হয়ে যায় এ পুস্তিকা নিয়ে। শেষে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ
তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়। বইটি লেখার ব্যাপারে তাঁর এক বন্ধু হগ
সহযােগিতা করেছিল, তাকেও বহিষ্কার করা হয়।
ছােটোবেলা থেকেই অর্থসম্পদ ও প্রাচুর্যের মধ্যে মানুষ হওয়ার কারণে শেলি কোনোে
নিয়মনীতির খুব একটা ধার ধারতেন না। অক্সফোর্ড থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর শেলির বাবাও
তাকে বাড়ি থেকে বহিষ্কার করলেন। এ সময়ে শেলির খুবই আর্থিক কষ্ট যাচ্ছিল। এরই মাঝে
হঠাৎ করেই জীবনে এল প্রথম প্রেম। গ্রোভ নামের এক মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগলেন
শেলি, কিন্তু এ প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
পরবর্তীকালে শেলি তার এক বােনের বান্ধবী হ্যারিয়েটের প্রেমে পড়েন, শেষে তাকে বিফ্রে
করেন। কিন্তু তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মের পরপরই হ্যারিয়েট নিজেই বিবাহ বিচ্ছেদ চান।
বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর হ্যারিয়েট তার পিতার গৃহে গিয়ে আর একটি সন্তান জন্ম দেন।
1.
তারপর শেলি মেরি নামের এক রমনীকে বিয়ে করেন। মেরি ছিলেন বিখ্যাত ল্লেখক
গডউইনের কন্যা। মেরি ও শেলি দুটি পুত্র-কন্যা লাভ করেন এবং ইতালিতে পাড়ি জমান।
ইতালিতে তাঁর পুত্র ও কন্যা দুজনই মারা যায়। ১৮১৯ সালে তাঁর তৃতীয় সন্তান জন্ম নেয়।
১৮২২ সালের গ্রীষ্মকালে সমুদ্রতীরে নৌকা ভ্রমণকালে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি
হয়ে এই মহান কবি মৃত্যুবরণ করেন। তার বিখ্যাত বইগুলাে হচ্ছে, কুইন ম্যাব
অ্যালাস্টার', 'দি রিভােল্ট অব ইসলাম,' 'এড়ােনিস', 'দি ডিফেন্স অব পােয়েট্রি ইত্যাদি।
Ozymandias কবিতাটি গ্রিক ঐতিহাসিক ডিডােরাসের বর্ণনা পাঠ করে লেখাম
0zymandias শব্দটি গ্রিক, রাজা দ্বিতীয় রামেসেস গ্রিক ভাষায় এ নামে পরিচিত।
Ozymandias নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দবী মনে করতেন, তিনি নিজেকে রাজার রাজ
ভাবতেন। এই কবিতায় Ozymandias-এর ভগ্ন প্রস্তর মূর্তির কথা বলা হয়েছে। মরুভূমির
বালিতে শুধু দুটো পা দাঁড়িয়ে আছে, শরীর নেই। এখানে রাজা যেন বলছেন, দেখাে, আমার
দিকে তাকাও গর্ব আর হতাশার সঙ্গে। বিশাল ক্ষমতাশালী ছিলাম, আজ কী পরিণতি আমার
কবিতাটিতে মানব জীবনের গভীর এক ট্রাজেডির রূপ অপূর্ব দক্ষতায় ফুটিয়ে তােলা হয়েছে।



১৭৯৫ সালের ৩১ অক্টোবর লন্ডনের মুবফিন্ডস নামক স্থানে ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি
জন কিটস জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম টমাস কিটুস এবং মায়ের নাম ফ্রলান্সিস জেনিংস।
পাঁচ ভাই-বােনের মধ্যে কিটুস ছিলেন সবার বড়।
কিটুস সচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিলেন না। তার বাবা ঘােড়া ভাড়া দেওয়ার এক
আন্তাবলে কাজ করতেন। টমাস কিট্স তার মনিব কন্যাকে বিয়ে করেন।
আট বছর বয়সে কিট্সকে লন্ডন শহরের এনফিল্ডে জন ক্লার্ক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয়া
হয় ১৮০৩ সালে। এরপর বছরই অর্থাৎ ১৮০৪ সালে কিটুসের বাবা ঘােড়ার পৃষ্ঠ থেকে পড়ে
মৃত্যুবরণ করেন। তাদের সংসারে নেমে আসে ঘাের দুর্দিন। কিটুসের বাবার মৃত্যুর মাত্র দু
মাসের মধ্যেই কিটস্র মা আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন উইলিয়াম রাউলিং নামে এক ব্যক্তির
সাথে। কিন্তু এ বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। তিনি ফিরে আসেন স্বামীর বাড়ি থেকে এবং ফিরে
এসেই যক্ষ্মারােগে আক্রান্ত হন। ১৮১০ সালে কিটুসের মা মারা যান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কিটস
তার মায়ের শয্যাপাশে থেকে সর্বদা আন্তরিক সেবা প্রদান করেছেন। কিটুসের মা যখন মারা
যান তখন কিটুসের বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর। পূর্বোক্ত বিদ্যালয়ে কিটুস ১৮১১ সাল পর্যন্ত
পড়াশােনা করেন। মায়ের মৃত্যুতে কিটস হতােদ্যম হয়ে পড়েন-এবং লেখাপড়ায় মন বসানাে
তাঁর কঠিন হয়ে পড়ে। এ বেদনাকে ভুলে থাকার জন্য তিনি খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং
মুষ্টিযােদ্ধা হিসেবে কিছুটা সুনামও অর্জন করতে সমর্থ হন। ১৮১১ সালে তাঁর বােন কিটুসকে
বিদ্যালয় থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ড. হ্যামন্ড নামে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান চিকিৎসাবিদ্যা
শেখার জন্য, কিন্তু তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় কিটুস ফিরে আসেন। এরপর সেন্ট টমাস
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিপ্লোমা লাভ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের
জগৎ তার মােটেই ভালাে লাগেনি; কারণ কাব্যলক্ষ্মী তখন তাকে হাতছানি দিচ্ছে।
পরবর্তীকালে কিটুস শিল্পসাহিত্যের সেবক লি হান্ট, কবি শেলি, ল্যাম্ব, কোলরিজ প্রমুখ
সাহিত্যিক, কবি, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হেভেন ও বিখ্যাত কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সংস্পর্শে আসেন
এদের প্রেরণায় তাঁর শিল্পসাহিত্যের কাজ এগিয়ে যেতে থাকে। এরই মাঝে তার এক
উপার্জনকারী ভ্রাতা বিয়ে করে আমেরিকায় পাড়ি দেন। ছােটো ভাই টম যক্ষ্মায় আক্রান্ত। এই .
সব টানাপড়েনে ব্যথিত কবি মানসিক বেদনার উপশম ঘটাতে বেড়াতে গেলেন স্কটল্যান্ডে।
১৮১৮ সালে ছােটো ভাই টমও তাকে ছেড়ে চলে গেল পরপারে। কিট্স তখন একেবারে অকুল
পাথারে পড়লেন।
কিটসের জীবনে হঠাৎ করেই এলেন ফ্যানি ব্রাউন নামের এক রূপসী নারী। নানা
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফ্যানিকে বিয়ে করলেন কিট্স, কিন্তু ফ্যানি তার ঘরে এল না কোনােদিন।
ফ্যানিকে না পাওয়ার এই বেদনা তার কাব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
মাত্র আঠাবাে বছর বয়সে কিটসের প্রথম বই ইমিটেশন অব স্পেন্সার প্রকাশিত
কিটুসের অন্য বইগুলাে হচ্ছে, 'গােয়েমস', 'এন্ডাইমিয়ন', 'লামিয়া অ্যান্ড আদার পােয়েমস
যে সৌন্দর্যমণিত দৃষ্টিতে কিটুস পৃথিবীকে অবলােকন করেছেন পৃথিবী সে চোখে কিটস
গ্রহণ করেনি। তার গুরােটা জীবন কেটেছে নানা দুঃগ বেদনা ও হতাশার মধ্য দিয়ে। ভাই
অন্যত্র চলে যাওয়া, ছােটো ডাইয়ের মৃত্যু, এরপর নিদারুণ অর্থকষ্ট, ফ্যানি কর্তৃক প্রত্যাখা
এই সব আঘাত তার হৃদয়কে টুকরাে টুকরাে করে দেয়। বাসা বীধে মরণব্যাধি যক্ম। ১৮
সালে রক্তবমি হয় তাঁর। আর এদিকে সৌন্দর্যের অপরূপ মায়াজাল বিস্তার করা কষিতাগ
লিখিত হচ্ছিলাে এসময়েই। ১৮২০ সালে তাকে রােমে নিয়ে যাওয়া হয়। রেমে যাওয়ার সময়
গােপনে তিনি আফিম সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন তাড়াতাড়ি মৃত্যুকে ডেকে আনার জন্য। অসের
বেদনা, অনেক কষ্ট বুকে ধরে ১৮২১ সালে এই মহান কবি মাত্র ছাকি্বিশ বছর বয়সে অকাল
মৃত্যুবরণ করেন। রােমের প্রটেস্ট্যান্ট সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাহিত করা হয়।
কিটুসের কবিতাগ্রন্থগুলাের মধ্যে লামিয়া অ্যান্ড আদার পােয়েমস' বিশেষ উল্লেখযােগ্য।
কারণ এই বইটিতে 'ওড টু নাইটিংগেল', 'ওড টু অটাম', 'ওড অন এ গ্রিসিয়ান আর্ম', 'দি ইত
অব সেন্ট অ্যাগনিস', 'লামিয়া' প্রভৃতি কবিতা স্থান পেয়েছে।
টু অটাম' (To Autumn) কবিতাটি ১৮১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উইনচেস্টারে।
লেখা। সেখান থেকে কিট্স জন হ্যামিল্টন রেনন্ডকে লেখেন- বর্তমান ঋতুটি কত সুন্দর ক
চমৎকার আবহাওয়া। উইনইচেস্টারের এই সেপ্টেম্বর মাসের সময়টি, কিট্সকে বিশেষভাবে,
প্রভাবিত করেছিল। সে সময়ের প্রাকৃতিক রূপ তাকে বিমােহিত করেছিল, যা তার বন্ধুর কাছে
লেখা পত্র পাঠ করলে বােঝা যায়।
কবিতাটির শুরুতে অর্থাৎ প্রথম স্তবকে আমরা শরৎকালীন স্বাভাবিক রূপটিই প্রত্যক্ষ করি,
কিন্তু দ্বিতীয় স্তবকে এসে তার রূপ সম্পূর্ণই বদলে যায়। সেখানে শরৎ যেন মানবিক এক রূপ
নিয়ে আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়। তৃতীয় স্তবকে আমরা প্রত্যক্ষ করি এ ঋতুর শব্দোবলি,
পাবির কাকলি, ঝিঝির শব্দ, মেষের ডাক- এসবই যেন শব্দের কারুকাজে চিত্রিত। প্রকৃতি
যেন এসব শব্দের মাঝে নিজেকে মেলে ধরেছে। কবিতাটিতে কবি গ্রিক পৌরাণিক বিষয়েরও
অবতারণা করেছেন।
কবিতার প্রথম স্তবকে কুয়াশা, ফলভারানত বৃক্ষ, সূর্যের উত্তাপ, শস্যের দানার পূর্ণতা,
মৌমাছিদের মধু সঞ্চয় এসব দ্বারা প্রকৃত শরৎ ঋতুকেই ফুটিয়ে তােলা হয়েছে।
দ্বিতীয় স্তবকে এসে শরৎ যেন আর ঋতু থাকে না, সে নারীরূপে নিজেকে রূপান্তরিত
করে, শস্য মাড়াইয়ের স্থানে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়, কিংবা এলাে চুলে ঠায় বসে থাকে
মাঠে, আবার ধান কুড়ােনি মেয়েদের সাথেও তাকে দেখা যায়। মােট কথা, একটি মানবীয় রূপ
পরিগ্রহ করে শরৎ ঋতু।
তৃতীয় স্তবকে এসে দেখা যায় শব্দের সমারোেহ, মেষের ডাক, ডাশের গুন গুন, ঝিঝির
শব্দ, চিলের চিতকার। এসব শব্দ দ্বারা শরৎ যেন নিজেকে প্রকাশ করছে পাখির কাকলি আর-
ঝিঝির ঐকতানে।



১৬০৩ সালে এলিজাবেথীয় রাজত্বকালের অবসান ঘটলেও এ রাজত্বকাল একটি স্মরণীয়
রাজত্বকাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। পুরনাে জরাজীর্ণতাকে পরিহার করে নতুন ধ্যান-
প্ারণাকে ধারণ করে তিনি ইংল্যান্ডের জীবনযাত্রায় নতুন প্রাণের জাগরণ ঘটিয়েছিলেন। তাঁর
রাজতুকালকে আধুনিক চিন্তাচেতনার ভেতর প্রতিষ্ঠার কাল বলা যায়। চার্চের আধিপত
প্রভদের শােষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির কাল ছিল এ সময়টি, গণতান্ত্রিক চেতনায় জাগরিত
করতে চেয়েছিলেন তিনি ইংল্যান্ডের জনজীবন।
এ যুগেরই শীর্ষস্থানীয় একজন কবি হলেন জন মিলটন। ১৬০৮ সালে ৯ ডিসেম্বর লন্ডन
শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা ছিলেন একজন শিক্ষিত মানুষ এবং উঁচু পদের
করনিক। মূল পেশা ছিল দলিল-দস্তাবেজ তৈরি করা। সঙ্গীতেরও সমঝদার ছিলেন তিনি।
নানা বৈচিত্র্যে ভরা মিলটনের শৈশব। অন্য দশজন বালকের মতাে মিলটন আমােদ
প্রমােদ, খেলাধুলা, হৈহল্লা মােটেই পছন্দ করতেন না। পড়াশুনার প্রতিই তার আগ্রহ ছিল
অধিক। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি পড়া্তনায় নিমগ্ন থাকতেন।
প্রথমে তাকে সেন্টপল স্কুলে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে পাঠ
সমাপন করেন এবং ১৬ বছর বয়সেই তিনি ক্যান্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৬২৯ সালে
সেখান থেকে স্নাতক ও ১৬৩২ সালে স্নাতকোক্তর ভিগ্রি লাভ করেন। মিলটনকে ক্যাম্রিজ
বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মভার গ্রহণ করার অনুরােধ জানানাে হয়েছিল কিন্তু তিনি
তা প্রত্যাখ্যান করে ফিরে গেলেন বার্কিংহাম শায়ারের হটন্নে তাঁর পিতার কাছে। তাঁর উদ্দেশ্যে
তিনি ইংল্যান্ডের চার্চের পাদরি হবেন। এ সময় মিলটন অনেক কবিতা রচনা করেছিলেন।
যৌবনের স্বপ্নকল্পনায় বিভাের হয়ে লন্ডনের পার্কে রাস্তায় সুন্দরী তরুণীদের প্রত্যক্ষ করেছেন,
দেখেছেন দু চোখ ভরে প্রকৃতিকে, মাটি আর মানুষকে। মিলটন ছিলেন অসাধারণ শারীরিক
সৌন্দর্যের অধিকারী। মিলটন ইচ্ছে করলে সুন্দরী তরুশী সহযােগে মদের পেয়ালায় ঠোট
ছুইয়ে ফুর্তিতে গা ভাসিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সে পথে যাননি, তিনি ছিলেন পবিত্রতার
প্রতিমূর্তি।
মিলটন একসময় সাংবাদিকতার জগতে চলে আসেন এবং দীর্ঘদিন এ পেশায় যুক্ত থাকেন।
১৬৫২ সালে হঠাৎ করেই তিনি একেবারে অন্ধ হয়ে যানু। এ অবস্থায় তিনি তার বিখ্যাত কাব্য
প্যারাডাইস লস্ট রচনা করেন। তার এই কাব্য তাঁকে খ্যাতি ও সম্মান এনে দেয়।
তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলাের মাঝে উল্লেখযােগ্য হলাে প্যারাডাইস লস্ট (১৬৬৭)
প্যারাডাইস রিগে্ড (১৬৭১), স্যামসন এগােনিস্টিম (১৬৭১)
১৬৭৪ সালে এই যুগন্ধর কবি ইহলােক ত্যাগ করেন। মিলটনকে বলা ধাযর অ
সময়কালের একজন আপসহীন সংগ্রামী সেনানায়ক।



১৭৭০ সালের ৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের নিচু হ্রদ এলাকার অদূরবর্তী শহর
ককারমাউথে কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ জন্মগ্রহণ করেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থের পিতার নাম জন
ওয়ার্ডসওয়ার্থ, পেশায় তিনি ছিলেন একজন আইন ব্যবসায়ী। ওয়ার্ডসওয়ার্থের শৈশব কেটেছে,
হ্রদ এলাকার সহজ সরল কৃষকদের সান্নিধ্যে। ওয়ার্ডসওয়ার্থ খুব ছােটোবেলায়ই তার মা-
বাবাকে হারান। এ কারণে লেখাপড়ার খরচ জোগানাের জন্য তাকে তার আত্মীয়স্বজনের ওপর
নির্ভর করতে হয়েছে। প্রথমে তাকে গ্রামেরই হকশেড গ্রামার স্কুলে ভর্তি করানাে হয়।
এখানকার পড়াশােনার পাট চুকলে ক্যামব্রিজের আওতাধীন সেন্ট জন কলেজে ভর্তি হন তিনি।
তখনাে তার মাঝে কাব্যভাবনার স্বপ্নালু দিকগুলাে ফুটে ওঠেনি কখনাে। সে সময়ে তিনি
পাহাড়ে আরােহণ, নৌকাবাইচ এবং হৈ-হল্লা করে সময় পার করতেন।
১৭৯১ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ফরাসি দেশে তখন বিপ্লবের দামামা
বাজছে। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে প্রত্যক্ষ করলেন পৈশাচিক উল্লাসে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে।
বিপ্লবের এই বিপথগামিতা দেখে তিনি মনে বড়াে আঘাত পেলেন এবং ১৭৯২ সালে ইংল্যান্ডে
ফিরে এলেন। এ সময় তার এক বন্ধু রাইজলে কালভার্ট তাকে কিছু নগদ অর্থ প্রদান করে
কাব্যচর্চার দিকে ফিরে আসতে উৎসাহ প্রদান করলেন। রাইজলের অর্থসাহায্য প্রাপ্তির পর
ওয়ার্ডসওয়ার্থ কাব্যসাধনায় মনােযােগী হলেন।
ওয়ার্ডসওয়ার্থের শুধু তখন একটাই ভাবনা, কবিতা আর কবিতা, কারণ আয় রােজগারের
কোনাে ভাবনা নেই। শুধু ফুলপাতা, তরুলতা আর স্বপ্নলােকে বিচরণ। এ সময় তার
অনুপ্রেরণাদাত্রী ছিলেন বােন ডরােথি। এরই মাঝে তার পাশে জুটলেন কবি কোলরিজ। বােন
ডরােথির সেবা আর কোলরিজের বন্ধুত্ব দুটোই কবিকে এগিয়ে দিল অনেক দূর। ১৭৯৮ সালে
প্রকাশিত হলাে তার "লিরিক্যাল ব্যালাড নামে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটিই তাকে বিশ্বসাহিত্যে
আসন করে দেয়। ১৭৯১ সালে ফ্রান্স ভ্ৰমণে গিয়ে মারি অ্যান নামে এক রমনীর প্রেমে পড়েন
কিন্তু তা সফল হয়নি। ১৮৩২ সালে তিনি মেরি হ্যাচিন্সন নামের এক রমণীকে বিয়ে করেন।
জীবিত থাকাকালীন কবি বহু খেতাব ও সম্মানে ভূষিত হন তার কাব্যকর্মের জন্য। ১৮৫০
সালে এই মহান কবি পরলােকগমন করেন।
ড্যাফোডিল' কবিতাটিতে ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রকৃতিপ্রেমের আসল পরিচয় পাওয়া যায়।
প্রকৃতিপ্রেমের কবিতা হিসেবে এটি সার্থকভাবে উন্নীত। প্রকৃতির সঙ্গে মানব হৃদয়ের গভীর
যােগাযােগের বিষয়টি এ কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে। কবি ড্যাফোডিল ফুলগুলাে প্রত্যক্ষ করার
দীর্ঘ দিন পরেও হাজার হাজার ড্যাফোডিল ফুলের সারি তার ভাবনায় বারবার হানা দিয়েছে।
গৃহে সােফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজতেই তিনি ড্যাফোডিল ফুলদের নৃত্য প্রত্যক্ষ
করতেন। কবি বলেছেন, ফুলগুলাে তার ভাবনায় এনে দিয়েছে নতুন এক ব্যঞ্জনা। কবি এবং
নিসর্গ এ দুটোর অসাধারণ যােগাযােগ ঘটেছে এ কবিতাটিতে।



১৭১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর কর্নীহিল নামক স্থানে টমাস গ্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিত
ফিলিপ গ্রে ছিলেন লন্ডন শহরের একজন খ্যাতিমান দলিল লেখক। গ্রের শৈশবকাল কেটে
বিশাল একটি পরিবারে এতিম সম্ভানের মতাে। ছেলেবেলাটা তাঁর খুবই যন্ত্রণার মধ্য নি
অতিবাহিত হয়েছে। কারণ তাঁর পিতা সর্বদা তার মায়ের প্রতি রূঢ় আচরণ করতেন।
১৭২৫ সালে গ্রেকে এটনে পাঠানাে হয়। সেখানে তার বেশ ক'জন বন্ধুবান্ধব জুটে যায়।
এটনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচীন ঐতিহ্য তার মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। এটনের প্রকৃতি তাঁ
মাঝে বলা যায় চেপে বসে এবং এ সময় তিনি ল্যাটিন ভাষায় কবিতা রচনা শুরু করেন।
১৭৩৯ সালে তিনি দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন, উপস্থিত হন ফ্রান্সে। সে বছরই নভেম্বর মাসে
তিনি আল্পস পর্বত অতিক্রম করেন এবং ১৭৪০ সালের পুরাে সময়টাই তিনি ইতালিতে
কাটান। রােম ও ভেনিসে দ্রমণ করেন এবং পরবর্তীকালে বন্ধুদের সঙ্গে মনােমালিন্য হওয়ার
ভেনিস থেকে আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। ইতালির ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলাে
গ্রের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ১৭৪২, সালে তাঁর ওড অন দি স্প্রিং নামক কবিতা
প্রকাশিত হয়। মিস স্পিড নামের এক সুন্দরী মহিলার সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এলিজি ইন এ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ড কবিতাগুচ্ছ ১৭৫১ সালে প্রকাশিত হয়। ১৭৫৩ সালে তাঁর
প্রথম নির্বাচিত কবিতার সংকলন প্রকাশিত হয়। ক্রমে প্রকাশিত হয় 'দি প্রগ্রেস অব পয়েজি,
দি ভিসেন্ট অব অডিন দি ফাটাল সিস্টার' ইত্যাদি মহৎ কর্মগুলাে।
১৭৬৮ সালে গ্রে ক্যামব্রিজে সমকালীন ইতিহাসের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৭৭১ সালের
৩০ জুলাই এই মহান কবি লােকান্তরিত হন।
এলিজি রিটেন ইন এ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ড কবিতাটি লেখা শুরু হয় ১৭৪২ সালে এবংশে
হয় ১৭৪৯ সালে। এই কবিতাটি লেখা হয় স্টক পােজি চার্চইয়ার্ডে বসে। সেখানে ম্রের বাবার
মৃত্যুর পর তার মা ও মাসি দুজনে বসবাস শুরু করেছিলেন।
বর্তমান কবিতাটিতে মৃত ব্যক্তিদের আবাসস্থল কবরস্থানের কথা বলা হয়েছে। ষারা
এককালে পৃথিবীতে বর্তমান ছিল, স্নেহ মমতার বন্ধনে আবদ্ধ ছিল, আজ তারা সকল স্নেহ
মমতা ভালােবাসার উর্ধ্বে অবস্থান করে নির্জন কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত। যারা পৃথিবীতে বা
তাদের সমাজে বড়াে কোনাে ভূমিকা রাখেনি, দেয়নি কোনাে নেতৃত্ব, করেনি কোনাে সংঘাত
এই সব সাধারণ নিরীহ মৃতজনদের উদ্দেশ্য করেই কবিতাটি লেখা। এ কবিতাটি হয়ে উঠেছে
বিশ্বজনীনের শােকগাথা, যেন সারা পৃথিবীর সকল চার্চইয়ার্ডের প্রতি উৎসগীকৃত।
সারা দুনিয়ার অবহেলিত নিরীহ মানুষেরা যেন এ কবরস্থানে এসে একত্রে মিলিত হয়েছে।
যাদের জন্য আজ আর এক ফোটা অশ্র বিসর্জন করে না কেউ। শুধু স্মৃতিফলকে লেখা কিছু
বাণী ঘাসের আড়ালে জেগে থাকে।



১৫৭২ সালে কবি জন ডান লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তার পিতা-মাতার জ্যেষ্ঠ
সন্তান। তার মা ছিলেন শিল্পসাহিত্য ঘেঁষা এক পরিবারের কন্যা এবং বিখ্যাত নাট্যকার Jhon
Heywood-এর বােন। জন ডানের পিতা ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। জন ডানের বয়স
যখন মাত্র চার বছর তখন তার পিতা পরলােকগমন করেন। জন ডানের শিক্ষাজীবন
অতিবাহিত হয় অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজে। বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশােনা করেও শুধু ধর্মীয়
কারণে তিনি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেননি। পরবর্তীকালে তিনি ক্যাথলিক ধর্ম ত্যাগ করে
আংলিকান ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মের উপর পড়াশােনা, পাদ্রি এবং শেষে গির্জার উপাচার্য পদে
থাকার কারণে ধর্মীয় দিক তার মাঝে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি
আরাে গভীরভাবে ধর্মের মাঝে ডুবে যান।
1.
জন ডান যে সময় কাব্যচর্চা শুরু করেন তখন এলিজাবেথীয় কালের সহজ-সরল কাব্য ধারার
শেষ দিক। তখন কাব্য হয়ে উঠেছে যুক্তিনির্ভর এবং বুদ্ধির দীপ্তিতে ঝলমলে; গণিত, জ্যামিতি,
দর্শন সবই চলে এসেছে কাব্যক্ষেত্রে। এ ধারার কবিদের ব্যঙ্গ করে বলা হত দার্শনিক কবিকুল
(মেটাফিজিক্যাল পােয়েটস)। জন ডান ছিলেন মেটাফিজিকাল কবিদের গুরু। তবে প্রেমের ক্ষত্রে
জন ডান ছিলেন আশাবাদী কবি, হতাশার নন। তিনি ছিলেন সফল প্রেমের কবি।
জর্ন ডান ছিলেন সত্যিকারের প্রেমিক। প্রেমের ক্ষেত্রে জন ডান সর্বদা উঁচু ধারণা পােষণ
করতেন। গুড মরাে কবিতায় কবি প্রেমের ভুবনে নতুন করে আত্মার জাগরণের কথা
বলেছেন। স্বাগত জানিয়েছেন নতুন দিনকে, স্বপ্ন দেখেছেন নতুন জগতের, যেখানে থাকবে না
কোনাে ভয়, কোনাে অবিশ্বাস, একে অপরকে জড়াবে পরম বিশ্বাসে। খুঁজে নেবে পরম
নির্ভরতার জগৎ। আগামী এক সুদিনের প্রতীক্ষা করেছেন কবি এই শব্দাবলির দ্বারা।
কবিতাটিতে সত্যিকারের ভালােবাসার কখনাে যে মৃত্যু হয় না জগৎ বদলে গেলেও, তা
সুন্দরভাবে চিত্রিত করেছেন'জন ডান।
১৬৩১ সালের ৩১ মার্চ এই মহান কবি পরলােকগমন করেন। সেন্ট পলস কবরস্থানে
তাঁকে সমাহিত করা হয়।


এডমন্ড স্পেনসার
১৫৫২ সালে এডমন্ড স্পেনসার লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার লিংকনশায়ার থেকে
লন্ডনে এসেছিল। ১৫৬১ সালে স্পেনসার মার্চেন্ট টেইলরস বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৫৬৯ সালে
প্রেমক্রুক হল ক্যামব্রিজ থেকে গ্রাজুয়েট হন এবং ক্যামব্রিজ থেকেই ১৫৭৬ সালে এম.এ ডিগ্রি
লাভ করেন। ১৫৬৯ সালে তার প্রথম প্রকাশনা Anonymous'-এর অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
১৫৯৫ সালে তার Amoretti and Epithalamion শিরােনামে বিখ্যাত সনেটগুচ্ছ
প্রকাশিত হয়। ১৫৯৪ সালের জুন মাসে এলিজাবেখ বয়লি নামের এক সুন্দরী নারীর সাথে
তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে Colin Clout's Come
Home Againe (1595), Four Hymns (1596), The Faeire Queene fa
উল্লেখযােগ্য। পেত্রাকীয় সনেটের অনুসরণে প্রেমবিষয়ক সনেট রচনা করে তিনি ইংরেজি
সাহিত্যে খ্যাতিমান হয়ে আছেন।
১৫৯৯ সালে এই মহান কবি পরলােকগমন করেন।
স্পেনসারের 'Amoretti' কবিতাটি ১৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রেমিক কর্তৃক
প্রেমিকাকে লিখিত কিংবা নিবেদিত এই কবিতা। ধারণা করা হয় যে, এলিজাবেথ বয়লি নামের
যে মহিলাকে কবি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন তাকে নিবেদিত কিংবা তাকে উদ্দশ্য করেই
লেখা এই কবিতাটি। স্পেনসার প্রেমবিষয়ক সনেট রচনাতেই হয়ত বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব
করতেন। এদিকে এ কবিতা প্রকাশের পূর্বেই পেত্রার্কের Rime ইংরেজি কাব্যধারাকে স্পর্শ
রেছে। পেত্রাকীয় চিন্তাচেতনা ও ভাবধারা তখন ইংরেজ তরুণ কবিদের অনুপ্রাণিত করছে।
ত্রীকীয় চেতনাকে আত্মস্থ করে ইংরেজি সনেটের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারার সূচনা করেন।
স্পনসার তার প্রেমবিষয়ক সনেটগুলাে রচনা করে। সমালােচকদের মতে, কবিতাটিতে যেন
বর নতুন কনেবধূকে নিবেদন করছে তার হৃদয়ের আকুতি। প্রেমদেবতা কিউপিডের প্রসঙ্গও
সেছে কবিতাটিতে। প্রেমিকাকে দেবী হিসেবে চিত্রিত করেছেন স্পেনসার তাঁর এ কবিতায়।
কাকে লিখিত লিপিগুলাে প্রেমের দেবীর হাত থেকেই এসেছে বলে উল্লেখ করেছেন
তিনি। উপমা, উৎপ্রেক্ষা এবং পুরাণ ব্যবহারে কবিতাটি অসাধারণ সৌন্দর্যে দীপ্যমান।



১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ এপ্রিল ওয়ারউইকশায়ারে অ্যাভন মদীর তীরে স্ট্রাটিফো্ডে (Start
ford-upon Avon)-এ উইলিয়াম শেকসপিয়ার জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জন
শেকসপিয়ার। জন শেকসপিয়ার ছিলেন একজন জোতদারের সন্তান। নিজের ভাগ্য
পরিবর্তনের জন্য তিনি ১৫৩১ সালে স্ট্রাটফোর্ডে এসে শস্য, চামড়া এবং অন্যান্য কৃষিদ্রিক্যের
ব্যবসা শুরু করেন।
উইলিয়াম শেকসপিয়ারের মায়ের নাম জেরি আর্ডেন। তিনিও একজন বড় জোতদারের
কন্যা ছিলেন। শেকসপিয়ারের পিতার বৃত্তি নিয়ে নানা মতভেদ দেখা যায়। কারাে কারাে মতে,
তিনি ছিলেন প্রাচীন ইংল্যান্ডের জোতদার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, আবার কেউ কেউ বলেন,
তিনি ছিলেন কষাই। তবে স্ট্রাটফোর্ড শহরের পুরনাে নাম থেকে জানা যায়, জন শেকসপিয়ার
ছিলেন একজন দস্তানা প্রস্তুতকারক ও নরম চামড়া দ্বারা তৈরি শৌখিন দ্রব্যের ব্যবসায়ী।
তিন ভাই এবং চার বােনের মধ্যে একমাত্র উইলিয়াম শেকসপিয়ারই জীবিত ছিলেন।
অন্যরা মারা গিয়েছিলেন ভয়াবহ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে। শেকসপিয়ারের বাল্য ও শৈশব সম্পর্কে
বিশেষ কিছু জানা যায় না। তবে এটুকু জানা যায়।
পরে উচ্চশিক্ষার সুযােগ তিনি পাননি। তবে কিছুটা গ্রিক ও লাতিন ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন।
পরবর্তীকালে লন্ডনে বাসকালে লাতিনের সাথে ফরাসি ভাষাও শিখেছিলেন।
যে, স্থানীয় অবৈতনিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার
শেকসপিয়ার ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে তার চেয়ে আট বছরের বড় অ্যালহ্যাখাওয়ের নামের এক নারীর
সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের ছ মাস পরে জন্ম নেয় তাঁর প্রথম সন্তান 'সুশলা। ১৫৮৫
খ্রিষ্টাব্দে তাদের সংসারে জন্ম নেয় জমজ সন্ভান হ্যামলেট ও জুডিথ। এরপর সাংসারিক চাপে
শেকসপিয়ার স্ট্রাটফোর্ড ছেড়ে লন্ডনে চলে আসতে বাধ্য হন। লন্ডনে এসে তিনি এক নাট্যদলে
ভর্তি হন। খুব সম্ভব প্রথম দিকে তিনি দলের ফাইফরমাশ খাটতেন। পরে অবশ্য অভিনয়ে জড়িত
হয়ে পড়েন। তবে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতে তাকে কখনােই দেখা যায়নি।
সে আমলের চড়া সুরে বাঁধা সংলাপসর্বস্ব নাটকে গভীর চিন্তাশীলতা বা বুদ্ধিমত্তার অভাব
এতটাই প্রকট ছিল যে, তিনি শিগগিরই বুঝতে পারলেন, তার জন্ম হয়েছে অভিনয় করার জন্য
নয়, জন্ম হয়েছে নাটক রচনা করার জন্য। এর পরই তিনি প্রচলিত অমিত্রাক্ষর ছন্দকে আশ্রয়
করে নাটক রচনায় নেমে পড়েন।
প্রাথমিক পরীক্ষা পর্বে ১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রচনা করেন Lovers Labour's Lost,
Comedy of Errors, Two Gentlemen of Verona u aa a a ae
১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দ, পর্যন্ত তিনি রচনা করেন 'Merchant of Venice'
King Jhon', A Mid Summer Night's Dream' ইত্যাদি আটটি নাটক। ১৫৯৯
থেকে ১৬০৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রচনা করেন 'Much About Nothinig,' 'Hamlet' ইত্যাদি।
নাটক। ১৬০৪ থেকে ১৫০৯ সালের মধ্যে শেকসপিয়ার তার শ্রেষ্ঠ ট্রাজেডিগুলাে রচনা করেন।
এগুলাের মধ্যে অন্যতম হলাে 'Othelo', 'Measure for Measure', 'Macbeth'
"King Lear', 'Antony and cleopatra' 'Carilanus' 4R a a “Timon of
Athens' 6 'Pericles'.
শেকসপিয়ার শেষ জীবনে ১৬১০-১৬১২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচনা করেন Cymbeline'
"The Winter Tale, The Tempest 4R Henry viii'.
সফল নাট্যকার হিসেবে প্রভূত যশ ও খ্যাতির অধিকারী হয়েছিলেন শেকসপিয়ার। ১৫৯৭
খ্রিষ্টাব্দে তিনি স্ট্রাটফোর্ডে নিউপ্লেস নামে বিশাল একটি প্রাসাদ ক্রয় করেছিলেন। জীবনের শেষ
দিনগুলাে তিনি এখানেই কাটান। এছাড়া বিখ্যাত নাট্যশালা Globe এবং Black Fiars
Theatres-এর মালিকানায় অংশ ছিল তার।
শেকসপিয়ার নাট্যকার হিসেবে সারা পৃথিবীতে পরিচিত হলেও তার সৃষ্ট কাব্যও অতি
মূল্যবান সাহিত্যকর্ম হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। তার রচিত শতাধিক চতুর্দশপদী কবিতায়,
এর প্রমাণ মেলে।
শেকসপিয়ারের বন্ধু বেন জনসনের লেখা থেকে জানা যায়, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি
ছিলেন বন্ধুবৎসল ও দরদি মনের মানুষ। মানুষ ও সমাজকে তিনি সহানুভূতি এবং অসাধারণ
দরদি মন নিয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন। মানুষের.মনের নিত্যদিনের আবেগ-অনুভূতি ও দ্বন্দ্-
সংঘাতের আলােড়নসমূহকে অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন তার সৃষ্টিকর্মে।
১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ এপ্রিল স্ট্রাটফোর্ডের নিজ বাসগৃহে এই মহান কবি ও নাট্যকার
পরলােকগমন করেন।
দান্তে ও পেত্রার্ক থেকে শুরু করে শেকসপিয়ারের সমকালীন কবিরা সবাই তাদের
সনেটসমূহে ব্যক্তিগত প্রেমের কথা লিখেছেন। যার মাঝে বাস্তব ও কল্পনা ইত্যাদির উপস্থিতি
লক্ষণীয়। শেকসপিয়ার কিন্তু সে পথে যাননি। তিনি তার সনেটসমূহে বিশেষ করে বেশ কিছু
সনেটে বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। সে সময়ে বিশেষ এক বন্ধুকেই নিবেদিত তার প্রেমবিষয়ক
সনেটগুলাে। শেকসপিয়ার আকৃষ্ট হয়েছিলেন সুন্দর এক যুবার প্রতি, যে ছিল তার চেয়ে বয়সে
অনেক ছােট। কেমন করে তিনি এই সুন্দর দেহসৌন্দর্যের অধিকারী যুবার প্রতি আকৃষ্ট হলেন
তা কেউ জানে না। সে যুবার দৈহিক সৌন্দর্যে ছিল রমণীসুলভ কোমলতা, তার স্বভাবে ছিল এক বাসন্তী মৃদুলতা। ১৮ নম্বর সনেটটি এই যুবা বন্ধুকে নিয়েই লেখা। যার সৌন্দর্যকে তিনি
গ্রীষ্মকালের সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করেছেন, যে সৌন্দর্যের কোনাে দিনই পরিবর্তন ঘটবে না।



মিশরের মমি গবেষকদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত, রিয়াল মমির উপরে কম্পিউটার সাইন্সের মাধ্যমে ফেইস এল্পাইমেন্ট ব্যবহার করে বের করেছে এই দূর্লভ ছবি।

ছবিটি মিশরের জাতীয় জাদুঘরে রাখা রিয়াল মমির ছবি।

সূত্রঃ মাতহাফুল মিশর
ও সাইমুম মাহাদী
শিক্ষার্থী,  আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,  মিশর।

#কালেক্টেড।

আরও কোন কিছু নিয়ে জানার থাকলে কমেন্ট করুন।

MKRdezign

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget